ছবি : নিজস্ব
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা সদরের বাহুবল বাজারের সরকারিভাবে নির্মিত ‘মহিলা কর্ণার’ নামে হতদরিদ্র মহিলাদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩টি দোকান কোঠা চরম অনিয়ম দুর্নীতির দায়ে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বন্ধ করায় ৮মাস ধরে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার।
অপরদিকে বিভিন্ন কর্মপ্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হতদরিদ্র মহিলারাও ব্যবসা করতে পারছে না। জানা যায়, ২০০৮ সালে বাহুবল বাজারের মধ্যখানে সরকার মহিলাদের আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য ৩টি দোকান কোঠা নির্মাণ করে। ২০১৬ সালে ওই দোকান কোঠা বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতদরিদ্র মহিলাদের মাঝে স্বচ্ছতার সাথে বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নিয়ে প্রভাবশালী ও ধনী পরিবারের মহিলাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু তারা ওই দোকান কোঠা মোটা অংকের জামানত গ্রহণ করে পুরুষ ব্যবসায়ীদের মাঝে উপ-ভাড়া দেয়া হয়।
পূর্বে যেসব মহিলাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয় তারা হলেন- ৪নং বাহুবল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরীর আপন ছোট বোন জেসমিন আক্তার চৌধুরী, বাহুবল গ্রামের ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার শামিম আহমেদের স্ত্রী মোছাঃ ফাতেমা বেগম এবং একই গ্রামের বাসিন্দা বাহুবল বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মজনু মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ লিজা বেগম। এর মাঝে জেসমিন আক্তার চৌধুরী হচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক বদরুল আলমের স্ত্রী।

উল্লেখ্য, বিগত ১৯ অক্টোবর ২০২৩ ইং তারিখের মধ্যে দোকান ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে হস্তান্তর করার নির্দেশনা দেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহুয়া শারমিন ফাতেমা। নির্দেশনা পেয়ে দোকান ঘর অদ্যাবদি পর্যন্ত তালাবদ্ধ অবস্থায়ই আছে। সম্প্রতি ৪নং বাহুবল সদর ইউপি অফিস থেকে নতুন করে মহিলাদের মাঝে ৩টি দোকানঘর বরাদ্দ দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয় এবং একটি যাচাই বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়। এর মাঝে যাচাই বাছাই কমিটিতে চেয়ারম্যানের আপন চাচা খায়ের চৌধুরীও রয়েছেন। আবার অপরজন চেয়ারম্যান আজমল হোসেন চৌধুরীর ভাড়াটে ব্যবসায়ী ইমাম উদ্দিন সরকার। বিজ্ঞপ্তির আলোকে ৩৮ জন মহিলা আবেদন করেন। কিন্তু ২৪ জনের আবেদন বাতিল করা হয় আবেদনের সাথে ট্রেড লাইসেন্স কপি না দেয়ায়। অথচ বিজ্ঞপ্তিতে ট্রেড লাইসেন্স কপি দেয়ার কথা উল্লেখ নেই।
পরে অবশিষ্ট ১৪ জনের আবেদন যাচাই বাছাই করে পূর্বের চেয়ারম্যানের আপন বোন জেসমিন আক্তার চৌধুরী, মোছাঃ ফাতেমা বেগম ও মোছাঃ লিজা বেগমের নাম বহাল রেখে সুপারিশপত্র পাঠানো হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে।
এখানে প্রশ্ন জাগে, ওই মহিলারা কি দরিদ্র? তারা কি নিজেরা স্বশরীরে ব্যবসা করবে? নাকি পূর্বের মতোই উপ ভাড়া দেবে পুরুষদেরকে? এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।
এদিকে এসব অনিয়ম ও স্বজন প্রীতির বিরুদ্ধে আউলিয়া আক্তার নামে এক মহিলা জেলা প্রশাসক ও সুমনা আক্তার নামে এক আবেদনকারী ইউএনও বরাবর আবেদন করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আহসান কে বার বার কল দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
জৈন্তাবার্তা/ মনোয়ার




