সবজি
নানাজাতের সবজি চাষের নিরব বিপ্লব ঘটেছে জামালগঞ্জে। এরমধ্যে ১০ গ্রামে বছরে উৎপাদিত হয় ৫০ কোটি টাকার সবজি। এতে হতদ্ররিদ্র গ্রামগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। গ্রামগুলো হলো- সদর ইউনিয়নের কালাগুজা, কাশীপুর, সংবাদপুর, লালপুর, চানপুর, আবুর হাটি, ফেনারবাক ইউনিয়নে রামপুর, জামলাবাজ, সুজাতপুর, শরিফপুর, ভুতিয়ারপুর। গ্রামগুলোর বেশীর ভাগ পরিবার সবজি চাষের সাথে যুক্ত। সবজি চাষ করে অনেক যুবকের বেকারত্ব ঘুচেছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে সবজী যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলায় এই গ্রামগুলোতে সারা বছর বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে। এসব সবজি সদর ইউনিয়নের মন্নান ঘাট, সংবাদপুর বাজার ও সাচনা, জামালগঞ্জ বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ভৈরব, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা ও সিলেট পাঠানো হয়। বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হয় এই অঞ্চলে।
সরেজমিনে গ্রামগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, করলা, বেগুন, কাকরুল সহ বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। কাশিপুর গ্রামের কৃষক ইয়ার আলী বলেন, কয়েক বছর আগে এই এলাকায় মানুষ ধানের চাষ করতেন। পাহাড়ি ঢলে পলি পড়ে জমি উচু হয়ে যাওয়ায় এখন সারা বছরই আমরা সবজি চাষ করে থাকি। প্রতিটি কৃষকেই যার যতটুকু জমি আছে, বিশেষ করে উঁচু জমিতে টমেটো সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকে। এই এলাকা টমেটোর জন্য প্রসিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন মিনি ট্রাক, ট্রলার ও লঞ্চে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকরা এসে টমেটো নিয়ে যায়। বছরে প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকার টমেটো বেচাকেনা হয় মন্নান ঘাট বাজারে।
সংবাদপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ধান চাষের চেয়ে সবজি চাষ লাভজনক। বছরে মৌসুম ভিত্তিক নানা জাতের সবজি চাষ করে বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। যারা টমেটো করেন তারা প্রতি বিঘায় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা লাভ করেন।
রামপুর গ্রামের সাইকুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, রজব আলী জানান, তারা প্রতি জনই ৫ থেকে ১০ বিঘা জমি টমেটো সহ অন্যান্য সবজী চাষ করেন। টমেটো বিক্রি করে বিঘা প্রতি ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা আয় করেন। এছাড়াও অন্যান্য সবজি চাষ করে আরো প্রায় ১ থেকে দেড় লক্ষ টাকা আয় করেন তারা।
তারা আরো জানান, এলাকায় ১ দশক আগে শুধু বোরো ধান ছাড়া আর কিছুই হতো না। পাহাড়ি ঢলে প্রতি বছর পলি পড়ায় বছরে এখন তিন ফসল করা যায়। এতে করে সারা বছরই প্রতিটি কৃষক বছরে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা সবজি বিক্রি করেন।
কালাগুজা গ্রামের সামছুল হক বলেন, ৮বিঘা জমিতে টমেটো ও অন্যান্য সবজি চাষ করে প্রতি বছর আমি ২০ থেকে ২২ লক্ষ টাকার সবজি বিক্রি করি।
মন্নান ঘাট বাজারে সবজির পাইকার আহমদ হোসেন বলেন, টমেটোর মৌসুমে এই এলাকায় প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার টমেটো বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এই বাজার ও এলাকা থেকে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার অন্যান্য সবজি প্রতিদিন বিক্রি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে জমি থেকে সবজি কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠায়।
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, সারা উপজেলায় একশত পঁয়তাল্লিশ হেক্টর জমিতে এই বছর সবজি চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি গ্রামে প্রায় ৮০ভাগ কৃষকেই সারা বছর সবজি চাষ করে থাকে। টমেটো, গোল আলু সহ বছরে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উপরে সবজি বিক্রি হয়। টমেটো ও আলুর জন্য মন্নান ঘাট অথবা আশেপাশে একটি হিমাগার স্থাপন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করবো এই এলাকায় যেন সরকারি ভাবে একটি হিমাগার তৈরি হয়।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




