ঈদের আগে দুশ্চিন্তায় সুনামগঞ্জের গৃহস্থরা
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ AM

ঈদের আগে দুশ্চিন্তায় সুনামগঞ্জের গৃহস্থরা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/০৬/২০২৩ ০১:৩৩:৩২ AM

ঈদের আগে দুশ্চিন্তায় সুনামগঞ্জের গৃহস্থরা

রোগে আক্রান্ত গরু


সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি) নামক একটি রোগ। ভাইরাসজনিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েকটি গরু মারা গেছে। এতে করে আসন্ন কোরবানি ঈদের আগে গবাদিপশুতে এই সংক্রমণ সবাইকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

এই রোগে সবচেয়ে বেশি গরু মারা যাচ্ছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায়। জানা যায়, পালকাপন গ্রামের কৃষক ফজলু মিয়ার একটি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তার পরের দিন পাশের পাইকপাড়া গ্রামের মহিউদ্দিন ও মালেক মিয়া দুইজনের দুটি ষাঁড় মারা যায়। এর আগে বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া গ্রামের কাজী ইউসুফ নামের অপর একজনের একটি গাভি এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

উত্তর কলাউড়া গ্রামের কৃষক ইউসুফ বলেন, ‘আমার একটা গরু এই রোগে (লাম্পি স্কিন) মারা গেছে। প্রথমে গরুর পুরো শরীরে গুটা গুটা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার টাকার ওষুধ কিনে খাওনো হয়েছিল প্রাণীটিকে। চিকিৎসা করানো হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচেনি। এরকম শুধু গরুর ক্ষেত্রেই হয়নি। আরও ১৫ থেকে ২০টা গরু মারা গেছে এলাকায়। আমাদের এখানে সরকারি চিকিৎসক না থাকায় গ্রাম্য চিতিৎসা দিয়েই কোনো মত চালাতে হয়।’

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় দুই মাস আগে গরুর শরীরে এই লাম্পি স্কিন রোগের দেখা মেলে। এই রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরে গুটি বের হয়ে শরীর ফুলে যায়, পচন ধরে ও রক্ত বের হয়। গরুর শরীরে জ্বর থাকে। গরু খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না দিলে গরু মারা যায়। এ ছাড়া স্থানীয় ইউপি সদস্য ইশ্রাঈল আলীর একটি, মুনসুর আলী ও কৃষাণী আম্বিয়া খাতুনের একটি গরুর চিকিৎসা চলছে।

তারা বলেন, এই লাম্পি স্কিন রোগ যাতে আর না ছড়ায়, সে জন্য দ্রুত আক্রান্ত এলাকার গবাদিপশুকে সরকারিভাবে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা দরকার।

ইউপি সদস্য ইশ্রাঈল আলী বলেন, ‘আমার নিজের গরুটাও এই লাম্পি স্কিন রোগ আক্রান্ত হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। আমার চাচাতো ভাই শফিক, উনার একটা গরু এই রোগের কবলে মারা গেছে। আমার জানামতে আমাদের উপজেলায় অনেক গরু এ রোগে আক্রান্ত ছিলো।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই রোগের আমার উপজেলায় কোনো চিকিৎসা নেই। না পারতে মন বুঝের জন্য গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে যাই, ওষুধ খাওয়াই, চেষ্টা করি শেষ পর্যন্ত। কোনোটা ভালো হয় কোনো গরু মারা যায়। পশু চিকিৎসকরা নেই আমাদের এখানে।’ 

কার্তিক লাল নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসক বলেন, শুধুমাত্র দোয়ারাবাজারের একটি ইউনিয়নে ১২টা গরু এই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে গরুর মৃত্যু হলেও খবর জানেন না প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.জহিরুল ইসলাম। লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে গুরু মারা যাচ্ছে কি না প্রশ্নের উত্তরের কোনো গরু মারা যায়নি বলে দাবি করেন দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, লাম্পি স্কিন আছে, এটা শুধু দোয়ারাবাজারে না, সারা বাংলাদেশে আছে। আমরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। আমার অফিসে কোনো গরু মারা যায়নি, হয়তো এমনিতে (বাহিরে) দুই একটা মারা যেতে পারে। আমাদের যতটুকু আছে তা দিয়ে সহযোগিতা করছি, পরামর্শ দিচ্ছি।

জৈন্তাবার্তা/এমকে