প্রশাসন ছাড়া আ.লী*গকে র*ক্ষা করার কেউ ছিল না : জি কে গউছ
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০১:১৮ PM

প্রশাসন ছাড়া আ.লী*গকে র*ক্ষা করার কেউ ছিল না : জি কে গউছ

আশীষ দাশ গুপ্ত, লাখাই প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৫/০২/২০২৫ ০২:৫৮:২৪ AM

প্রশাসন ছাড়া আ.লী*গকে র*ক্ষা করার কেউ ছিল না : জি কে গউছ


বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ বলেছেন, জনগণের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক ছিল না। আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন ছিল বলেই জনগণকে ভয় পেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেষ্টনিতে থেকে আওয়ামী লীগ নেতারা উচ্চস্বরে কথা বলতো। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের পায়ের নিচে মাটি ছিল না। ২০১৪ সালে বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালে দিনের ভোট আগের রাতে আর ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সামান্যতম শক্তি জনগণের সামনে দেখাতে পারেনি। প্রশাসন ছাড়া আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার কেউ ছিল না।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব অডিটরিয়ামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকাস্থ লাখাই উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জি কে গউছ আরও বলেন, আমরা চাই দেশের সংস্কার হোক। জনগণের সম্পদ চুরি, অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ হোক। জনগণের ভোট দ্বারা নির্বাচিত জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমাদের অহংকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরও ২ বছর পূর্বে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা জাতির সামনে ঘোষণা করেছিলেন। জুলাই বিপ্লবের পরে দেশ সংস্কারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশন দেশ সংস্কারে যেসব প্রস্তাব দিয়েছে তার অধিকাংশ বিষয় তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্যেই রয়েছে। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অন্যায় আবদার পালন করতে গিয়ে পুলিশ জনগণ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। তাই ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যদেরকেও মূল্য দিতে হয়েছে। অস্ত্র ফেলে, পোশাক ফেলে পুলিশ সদস্যরা থানা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। অথচ এই পুলিশ বাহিনী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করেছিল, রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাখির মতো পুলিশ সদস্যদেরকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের রক্তের মাধ্যমে এই পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠেছিল। ৫ আগস্টের পর আবারও এই পুলিশ বাহিনীকে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে বেশি যে রাজনৈতিক দলটি অবদান রেখেছে তার নাম বিএনপি। বিএনপি নেতাকর্মীরা অরক্ষিত থানা পাহারা দিয়েছে, পুলিশের মনোবল বাড়ানোর জন্য আমরা সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সাথে মিলেমিশে কাজ করেছে।

জি কে গউছ বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। যা গত জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে।

ফোরামের সভাপতি তাজুল ইসলাম মোল্লা তাজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন লাখাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার আবদাল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুদ্দিন আহমেদ, ঢাকাস্থ লাখাই উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম, কামরুজ্জামান, লাখাই উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম মালু, যুগ্ম আহ্বায়ক তাউছ আহমেদ, লাখাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব লায়েছ মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফুল আলম বাদশা, লাখাই উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক আশীষ দাশগুপ্ত, লাখাই উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আহমেদ আজম, সোহেল আহমেদ, লাখাই ইউনিয়ন যুবদলের নেতা সাইফুল ইসলাম, আনজব আলী প্রমুখ।

জৈন্তা বার্তা/আরআর