সংগৃহিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সিলেট সফরকে ঘিরে পুরো নগরীজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। শনিবারের এই সফরকে সামনে রেখে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি প্রত্যাশা। উন্নয়ন ঘিরে নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার কথাও জোরালোভাবে সামনে আনছেন সিলেটবাসী।
স্থানীয়দের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে সিলেটে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বহু প্রতীক্ষিত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তাঁর ভাষায়, এখন শুধু অপেক্ষা-প্রধানমন্ত্রীর আগমনের।
সফরসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টার দিকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। আগমনের পর তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সুরমা নদীর তীরবর্তী চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
এছাড়া বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং পরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় যোগ দিয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
সফরকে ঘিরে ইতোমধ্যে নগরীর সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হয়েছে। পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
এদিকে, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সংগঠনও উন্নয়ন দাবিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সিলেট বিভাগ গণদাবি ফোরাম সম্প্রতি ২৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—সিলেটকে ‘আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’ ঘোষণা, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, রেলপথ আধুনিকায়ন এবং সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ।
এছাড়া প্রকৌশল ও পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পুনঃস্থাপন, নদ-নদী খনন, তেল সংরক্ষণাগার স্থাপন এবং আধুনিক, বিরতিহীন ট্রেন চালুর দাবিও রয়েছে তালিকায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম সিলেট সফর। ফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সফর সফল করতে ধারাবাহিক প্রস্তুতিমূলক সভা ও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরে স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনও পৃথক মিছিল করেছে।
মিছিল শেষে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে সিলেটসহ সারাদেশে উন্নয়নের নতুন গতি আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




