সংগৃহিত
দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সন্তান নিতে ইচ্ছুক নারীদেরও আগাম টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভাইরাস, টিকা ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, গর্ভধারণের এক থেকে দুই মাস আগে হামের (এমআর/এমএমআর) টিকা নেওয়া হলে নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুদের ঝুঁকি অনেকটা কমানো সম্ভব। পাশাপাশি রুবেলার টিকাও নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩৬ হাজার সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষায় পাঁচ হাজারের বেশি রোগীর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিতভাবে, আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২২৭ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসর্গ নিয়ে মৃতদেরও হামে আক্রান্ত হিসেবে ধরা যেতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশ দুই বছরের নিচে এবং ৩৩ শতাংশ নয় মাসের কম বয়সী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—দুই বছরের নিচে মারা যাওয়া অধিকাংশ শিশুই টিকার আওতায় ছিল না।
বর্তমানে দেশে নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের হামের প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ছয় মাস বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে পারছে না। পুষ্টিহীনতা ও পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়াও এর কারণ হতে পারে।
এ অবস্থায় গর্ভধারণের আগেই নারীর শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা গেলে শিশুর জন্য প্রাথমিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে গর্ভধারণ হয়ে গেলে কোনোভাবেই হামের টিকা নেওয়া যাবে না, কারণ এটি একটি লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাকসিন।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, রুবেলা ভাইরাস গর্ভাবস্থায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে শিশুর শ্রবণশক্তি, হৃদযন্ত্র ও চোখে জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা ‘কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম’ নামে পরিচিত। তাই সন্তান নিতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য রুবেলার টিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, হামের বিস্তার রোধে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী ২০ মের মধ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে সন্তান নিতে ইচ্ছুক নারীদের টিকাদানের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় টিকাদান–সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপ (নাইট্যাগ) সুপারিশ করলে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শিশুদের সুরক্ষায় শুধু নিয়মিত টিকাদান নয়, বরং প্রজননক্ষম নারীদেরও টিকার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও গবেষণা করে নীতিনির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




