সংগৃহিত
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ছুটি নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে হাওর এলাকায় যান স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের মল্লিকপুর এলাকার পাকনা হাওর পরিদর্শন করেন। এছাড়া সাচনা বাজার ইউনিয়নের ছনুয়ার হাওর ও ডাকুয়ার হাওর ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে প্লাবিত হাওরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে উপজেলার একাধিক হাওরের বোরো ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক তাদের বছরের একমাত্র ফসল হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
এ সময় কৃষকেরা হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। তারা বেড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান, ফসল পরিবহনের জন্য সাবমার্সিবল সড়ক নির্মাণ, বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন, বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, যাত্রী ছাউনি নির্মাণ এবং বালুছড়া নদী খননের দাবি জানান। সংকটকালে পাশে থাকার জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান তারা।
পরিদর্শন শেষে এমপি কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত এবং জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বন্দে আলী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাব্বির সারোয়ার, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা রামকুমার সাহা, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালিক ও আজিজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সামছুজ্জামান ধন মিয়া, সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক স্বপন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তৌফিকুর রহমান, ভীমখালি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক রহিছ উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




