টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীতে বেড়েছে পানি, বন্যার শঙ্কা
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪১ PM

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীতে বেড়েছে পানি, বন্যার শঙ্কা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/০৪/২০২৬ ০৫:৫৬:৫১ PM

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীতে বেড়েছে পানি, বন্যার শঙ্কা

সংগৃহিত


কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জের হাওরগুলো।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৪ মে পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে সংশয় দেখা দিয়েছে মাঠের ফসল নিয়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাস অনুযায়ী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেটে, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে ভারতে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ৩ মে থেকে ধান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে কিনতে বলা হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরগুলোকে। এবার সিলেট অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ধান ফলানো হয়েছে- তার অধিকাংশই হাওড়ে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে এবং ইতোমধ্যে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেলে হাওড়াঞ্চলের হাজার কোটি টাকার আধাপাকা বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

এক জানানো হয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

মূলত ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে ভারি বৃষ্টির প্রভাবেই এই পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

কৃষকরা জানান, আর কয়েকটা দিন সময় পেলে তারা ফসল ঘরে তুলতে পারতেন, কিন্তু আগাম বন্যা সব স্বপ্ন ম্লান করে দিচ্ছে। তবে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই অকাল বন্যায় জানমালের নিরাপত্তা ও সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

সিলেটের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা জানান, আগামী ৩ মে থেকে ধান কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও আমরা পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারিনি। সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান কেনার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সিলেটের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানান, সিলেটে ৮৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে হাওড়ের ৮৫ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে। দ্রুত ধান কেনার জন্য খাদ্য বিভাগে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

 

 

 

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

আজমিরীগঞ্জে বৃষ্টি আর শ্রমিক সং*কটে বি*পাকে কৃষকরা
অতিবৃষ্টি ও ঢলে তলিয়ে গেছে ধান, দিশাহারা লাখো কৃষক
শনিবার সিলেটে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, ব্যাপক প্রস্তুতি
সিলেটসহ ৯ জেলার জন্য আবহাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ
সিলেটসহ ৯ জেলার জন্য দুঃসংবাদ
স্বর্ণ খাতকে সাদা অর্থনীতিতে আনতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির
তারেক রহমানের সিলেট সফর ঘিরে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল
প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে নগরীতে ড্রোন ও উড়োজাহাজ উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা জারি
বরাম হাওরে বোরো ধান কাটার অগ্রগতি পরিদর্শনে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিলেট আগমন ঘিরে মহানগর ছাত্রদলের স্বাগত মিছিল