ছবি: নিজস্ব
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার হাওরে হাওরে এখন বোরো ধান কাটার এখন উৎসব চলছে। উপজেলার সকল বিল ও হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও ধান শুকানোর কাজে মেতে উঠেছেন কৃষক-কৃষাণীরা। এখানকার সকল বিল, হাওর এখন পাকা সোনালি বোরো ধানে ভরপুর।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ছাতকে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। উপজেলার নাইন্দার হাওর, ফাটার হাওর, বাড়ুকা হাওর, চাতলা হাওরসহ বড় বড় হাওরে বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষক মনির উদ্দিন, ইব্রাহিম আলী, পীর ছায়াদুর রহমান, আজাদ মিয়া, জাকির হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস ও কামাল উদ্দিনসহ অন্যান্য কৃষকরা। এ পর্যন্ত বন্যা না আসায় আর প্রবল বৃষ্টি না হওয়ায় সহজে পাকা বোরো ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও শুকাতে পারছেন কৃষকরা।
কয়েক বছর ধরে এখানে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে জমিতে আগাম জাতের বোরো ধান চাষাবাদ হওয়ার ফলে কিছু কিছু এলাকার পাকা ধান আগেভাগেই কাটা শুরু হয়। গত ১৫ দিন ধরে এখানে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষক-কৃষাণীরা ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও শুকানো নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার সকল বিল ও হাওরের প্রায় ৮০ ভাগ ফসল কাটা শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে, বন্যার আশঙ্কায় অতি দ্রæত ফসল কেটে নিতে কৃষকদের সরকারিভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রæত ফসল কাটায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম ও কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান ফসলের মাঠে প্রায়ই কৃষকদের সাথে বোরো ধান কাটতে দেখা যাচ্ছে। ছাতকের বিভিন্ন হাওর এলাকায় ধান কাটার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ৪৩টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন। তবে সনাতন পদ্ধতিতেকাস্তে দিয়ে বোরো ধান বেশি কাটা হচ্ছে। ধান মাড়াইয়ে আগে গরু ব্যবহার করা হলেও এখন সকল এলাকায় মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করছেন কৃষকরা। পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকলেও আধুনিক পদ্ধতির কারণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। গরু দিয়ে ধান মাড়াইয়ের দৃশ্য এখন এখানে আর দেখা যায় না। অনেক হাওরে কৃষকরা খলায় ধান নেয়ার কাজে গরু ও মহিষের গাড়ি ব্যবহার করছেন।
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ছাতক উপজেলায় ছোট-বড় বিল-হাওর রয়েছে ৬৩টি। চলতি বোরো মৌসুমে এখানে বোরো চাষাবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশী জাতের ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর, হাইব্রিড জাতের ধান ২ হাজার ১০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের বোরো ধান ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে হাওর এলাকাজুড়ে বোরো ধান কাটার এক মনোরম দৃশ্য। হাওরে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই-ঝাড়াই নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। পাশাপাশি কৃষাণীরা ধান মাড়াই-ঝাড়াই করে শুকিয়ে গোলায় তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হাওরে ধানের খলায় কাজ করছেন কৃষক, শ্রমিক, নারী ও শিশুরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, ৭/৮ দিনের মধ্যে ছাতকে বোরো ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে। দ্রæত ফসল কেটে গোলায় তুলে নিতে কৃষকদের তাগিদ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার নাইন্দার হাওর, ফাটার হাওর, বাড়ুকা হাওরসহ বড় হাওরগুলোর পাকা বোরো ধান প্রায় ৮০ ভাগ কাটা শেষ হয়েছে। দ্রæত ধান কাটার জন্য কৃষকদের আগে থেকেই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগামী ৭/৮ দিনের মধ্যে কৃষকরা বোরো ধান গোলায় তুলে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




