হাসপাতাল ফটকে পানি, দায়ছাড়া কর্তৃপক্ষ
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:১১ AM

হাসপাতাল ফটকে পানি, দায়ছাড়া কর্তৃপক্ষ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/০৬/২০২৩ ১১:৪৫:৪৫ AM

হাসপাতাল ফটকে পানি, দায়ছাড়া কর্তৃপক্ষ

ছবি সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার একমাত্র রোগ নিরাময় কেন্দ্র এটি। একটু বৃষ্টি হলে নানা রোগের উপসর্গ জমে থাকে তার প্রবেশদ্বারে। সামান্য বৃষ্টিতে হাসপাতালের বহির্দ্বার অংশে ময়লা পানি আটকে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে রোগী, রোগীর স্বজন ও শুভার্থীরা এ দুর্ভোগ বয়ে বেড়ালেও হাসপাতালের দায়িত্বশীল কারও দৃষ্টি পড়ছে না তাতে। এ নিয়ে ক্ষোভ আছে হাসপাতালে আসা লোকজনের। কিন্তু তাতে দৃষ্টি এড়িয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ লেখা সম্বলিত হাসপাতালের একেবারে মূল ফটকের সামন-ভেতরে জমে আছে ময়লা পানি ও কাদা। তাতে পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।  জমাটবাধা পানি লেগে অনেকের কাপড় চোপড়ও নষ্ট হচ্ছে। জলমগ্ন প্রবেশদ্বার পাড়ি দিতে গিয়ে কেউ কেউ বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় সেবা ও কাজ সেরে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের মতো একটি স্বাস্থ্যকর সুরক্ষিত স্থাপনার প্রবেশদ্বারটি এ রকম মশার প্রজননস্থলে পরিণত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলাকেই দায়ী করছেন হাসপাতালমুখী মানুষেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন হাজারও মানুষকে জরুরী প্রয়োজনে উপজেলা সদর হাসপাতালে ছুটতে হয়। এর মাঝে রোগী, রোগীর স্বজন, সঙ্গী যেমন আছে তেমনি জনপ্রতিনিধি, সকল পেশাজীবী, চাকুরিজীবী ও হাসপাতালে কর্মরত স্টাফসহ অন্যান্য লোকজনও নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। শুষ্ক সময়ে হাসপাতাল গেইটের আশপাশ পচা পানিমুক্ত থাকলেও বৃষ্টির দিনে এসে হাসপাতালের সুস্থ্য পরিবেশ নিয়ে কথা ওঠে। কিন্তু সেদিকে নজর নেই কারও বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক চাকুরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গেইটের সামনে একেবারে জঘন্য অবস্থা। ডাক্তার-রোগী সকলকেই এ নোংরা জায়গায় পা দিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে হয়। এটা কারও চোখে লাগে না। কি আর বলব, কারও দায় নেই। আপনারা এইটা লেখেন, ভালো করে লেখেন, না হলে কাজ হবে না।

হাসপাতাল থেকে ফিরে জামালগঞ্জ কিন্ডারগার্টেনের সিনিয়র শিক্ষক মো. আলী আমজাদ জানিয়েছেন, বেশ কয়দিন রোদ দিলে হাসপাতাল গেইটের পানি শুকায়। না হলে সকলকেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এর মাঝে জটিল কোন রোগী নিয়া গেলে তো অবস্থা খারাপ। রিক্সা নিয়া হাসপাতালে কেউ প্রবেশ করলে পানি ছিটকে অন্য আরেকজনের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। দায়িত্বশীলরা এগুলো দেখেও দেখেন না। তাহলে রোগীর ভালো-মন্দ তারা কীভাবে দেখবে?

হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন মেহেরুন্নেছা ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী মিসবাহ উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে ঢোকার মুখেই পচা-দুর্গন্ধময় পানি। এই সমস্যা ডিঙিয়ে রোগীরা হাসপাতালে যাচ্ছে। অনেকে তীব্র প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করছে আমাদের কাছে। কিছু টাকা খরচ করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে একেবারে উদাসীন।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মঈন উদ্দিন আলমগীর বলেন, বিষয়টি হেলথ্ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। তারা বলেছে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সিস্টেম অনুযায়ী আগামী বছরের মধ্যে কাজ হবে। এছাড়া কিছু করার নেই।

জৈন্তাবার্তা/এমকে