ছবি: নিজস্ব
জমির বিরোধ মেটাতে এমপির সঙ্গে যাচ্ছিলেন বিরোধপূর্ণ ভূমিতে। হঠাৎ ব্যানার টানিয়ে ছবি তোলে তাৎক্ষণিক সরিয়ে ফেলা হয় ব্যানারটি। পাঁচ বছর পর সেই ছবির মাশুল গুনতে জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহজাহানকে।
জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের তেলিয়া এলাকায় নিজের মালিকানাধীন ৫ শতক ভূমি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী রায়েবা আক্তার রাবুর সঙ্গে বিরোধ চলছিল বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহজাহানের। জমির দখল নিয়ে ছোটখাটো সংঘর্ষও হয়েছে দুপক্ষের মধ্যে। থানাপুলিশের পর বিষয়টি গড়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন পর্যন্ত।
২০১৯ সালের ২৩ জুন উপজেলা সদরের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান। দিনটি ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুসারীদের জটলা থেকে বেরিয়ে এসে শাহজাহানকে চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে আসেন এমপি। বলেন, বিরোধপূর্ণ ভূমি পরিদর্শনে যাবেন। কিছুদূর আগানোর পর হঠাৎ ঘটে অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। বুঝে ওঠার আগেই দুই ব্যক্তি এমপির বহরের সম্মুখে মেলে ধরেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছবি তোলে নয় একজন। যাতে দেখে মনে হয় বিএনপি নেতা শাহজাহান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এদিকে, তাকে ফাসানো হচ্ছে বুঝতে পেরেই তৎক্ষনাৎ ব্যানারের বাইরে চলে আসেন বিএনপি নেতা শাহজাহান। এমপিও ব্যানার গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে দিয়ে কপট শাসান নিজের অনুসারীদের।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মাদ শাহজাহানকে বিতর্কিত করার এমন অপেচেষ্টা ‘হাওরের হাঙ্গর’ খ্যাত বহুল সমালোচিত এমপি রতন করলেও সম্প্রতি এই ছবিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন নিজ দলের লোকেরা। এই ছবিকে সামনে এনে তাকে কমিটির বাইরে রাখতে চাইছেন তারা।
জানা যায়, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ছবি তোলার পরও সক্রিয়ভাবে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান। ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাদের যে দাবি তোলা হয় সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয় ২০২৩ সালে তাকে প্রধান আসামি করে পুলিশের দায়েরের মধ্যদিয়ে। চাব্বিশের ডামি নির্বাচনকে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করতে ৯ নভেম্বর নিজের উপজেলা সদরের বাসায় শতাধিক নেতাকর্মীকে নিয়ে বৈঠকে বসেন শাহজাহান। পুলিশ বৈঠকের খবর পেয়ে চারদিকে বাড়ি ঘেরাও করে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকিরা যার যার মত পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে লাঠিসোট ও পেট্রোল, গ্যাসলাইট উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন জামালগঞ্জ থানার এসআই কাওসার গাজী বাদি হয়ে ৫০/৬০ জনের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহজাহানকে। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হলে দীর্ঘ দুই কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এদিকে, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের পর এর প্রতিবাদে ১১ ফেব্রæয়ারি বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা সদর থেকে আবারো গ্রেফতার হন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান। থানার এসআই আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাÐ সংঘটনের অভিযোগে দায়ের করা ওই মামলায়ও প্রধান আসামি করা হয় তাকে।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিচার্থ করতে গায়েবী মামলার আসামি হন শাহজাহানের কলেজপড়–য়া ছেলে সাকিব আহমেদ রিয়াদ। মামলাটি ্দোয়ের করান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম শামীম। ওই মামলায় ৯ দিন কারাভোগ করেন রিয়াদ।
এদিকে, চব্বিশের ৪ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনের সময় থানায় পৃথক এজাহার দায়ের করেন বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ। চারটি মামলাতেই শাহ মোহাম্মদ শাহাজাহান, শাহ মোহাম্মদ শাকিব আহমদ রিয়াত ও মেয়ে সানজিদা আক্তার নিহাকে আসামি করা হয়।
জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক হাজী শফিকুর রহমান বলেন, শাহজাহান একটি চায়ের দোকানে বসা ছিলেন, জায়গার বিরোধ মেটানোর কথা বলে এমপি এসে বাইরে ডেকে নিয়েছেন, তখন কোনও ব্যানার ছিল না। সে বাইরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যানার টানিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করা জন্য এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর জামালগঞ্জে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছিল শাহাজাহান। কমপক্ষে ১৭ শ দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। শাহজাহানবিহীন জামালগঞ্জে কোনও বিএনপিই নাই। তার এমন কোনও বছর নাই দলের জন্য ১০/১৫ লাখ টাকা খরচ করেনি।
বিএনপি নেতা শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এমপি রতনের উপস্থিতে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে টের পেয়েই আমি সরে যাই। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাহসের সঙ্গে ফ্যাসিবাদের মোকাবেলা করেছি। মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে কারভোগ করেছি
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কলিম উদ্দিন মিলন বলেন, জামালগঞ্জের বিএনিপর নেতা শাহজাহানের ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তার বিগত সময়ের অবদানকে গুরুত্ব সঙ্গে বিবেচনা করে প্রতিবেদন দিবে। সেই আলোকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জৈন্তাবার্তা / এম সি




