হবিগঞ্জ-৪: পার্থক্য গড়তে পারে সংখ্যালঘুদের ভোট
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ AM

হবিগঞ্জ-৪: পার্থক্য গড়তে পারে সংখ্যালঘুদের ভোট

চুনারুঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০২/২০২৬ ০১:৪১:১৭ PM

হবিগঞ্জ-৪: পার্থক্য গড়তে পারে সংখ্যালঘুদের ভোট


আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হবিগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে নয়জন প্রার্থী থাকলেও শেষ মুহূর্তে এ আসনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত জয়–পরাজয়ে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে পারে সনাতনী সম্প্রদায় ও চা-বাগানের শ্রমিকদের ভোট।

চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ২৪২, হবিগঞ্জ-৪। এ আসনে রয়েছে ২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে চুনারুঘাট উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ৬১ হাজার ৮৪০ জন। মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি হলেও সংখ্যালঘু সনাতনী ভোটার ও চা-শ্রমিকদের ভোট বরাবরই এ আসনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। এ কারণেই আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

এবারের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির মনোনীত প্রার্থী হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল। অপরদিকে বৃহত্তর সুন্নী ঐক্যজোটের মোমবাতি প্রতীকে লড়ছেন দেশব্যাপী আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।

এছাড়া খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা ও ১১ দলীয় জোটের দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শিল্পপতি ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের মিজানুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হারিকেন প্রতীকের শাহ মো. আল আমিন, বাসদের মই প্রতীকের মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের লাঠি প্রতীকের রাশেদুল ইসলাম খোকন, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের সালেহ আহমদ সাজন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকের রেজাউল মোস্তাফাসহ মোট নয়জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

প্রচারের শুরুতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অনেকটা এগিয়ে থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমীকরণ বদলেছে। বর্তমানে ধানের শীষ ও মোমবাতির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সনাতনী সম্প্রদায় ও চা-শ্রমিকদের ভোট যেদিকে যাবে, বিজয়ও সেই দিকেই ঝুঁকবে।

এ অঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে ২২টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানে বসবাসরত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভোটারের অধিকাংশ অতীতে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে এবারের নির্বাচনে তাদের ভোট কার ঝুলিতে যাবে—তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু বলছেন না শ্রমিকরা। ফলে এ ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি ও কৌশল অবলম্বন করছেন।

নির্বাচনি মাঠে ভোটারদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে রেমা–কালেঙ্গা সড়কে নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার মানোন্নয়ন, চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় পর্যটন শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দলমত নির্বিশেষে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি এসব দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকবেন—এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সাধারণ ভোটারদের মাঝে আগ্রহ ও উত্তেজনা বাড়ছে। হবিগঞ্জের চারটি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-৪ আসনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধানের শীষ ও মোমবাতির সমর্থকদের তৎপরতায় পুরো এলাকা এখন নির্বাচনী আমেজে মুখর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ দুই প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে।

সব মিলিয়ে হবিগঞ্জ-৪ আসনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হবে, তা বলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

জৈন্তা বার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ:

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় পুষ্টিকে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা জানালেন জিয়াউদ্দিন হায়দার
শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
ঝিরির পানিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলল কাঠের বাটবিহীন ৭.৬২ মি.মি. রাইফেল
দূষণমুক্ত নগর গড়তে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন- সিসিক প্রশাসক
মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি
হাম ও উপসর্গে সিলেটে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৮০
জগন্নাথপুরে মৎস্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি: “আমি কি আমার মেয়ের বিয়ে লাগাইসি যে সাংবাদিকদের বলতে হবে!”
চার বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক
আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার সব স্তরের শিকড়- সিসিক প্রশাসক