ছবি:সংগৃহীত
পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে করিম ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের কিশোরপুর গ্রামে ২ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মধ্যে ১০ লক্ষাধিক অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার বাদ জোহর ট্রাস্টের ফাউন্ডার ও ট্রাস্টি আব্দুল করিম গনির গ্রামের বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কিশোরপুরসহ পার্শ্ববর্তী খালিশাপাড়া, নোয়াপাড়া, মোজাহিদপুর, রমাপতিপুর ও উলুকান্দি গ্রামের অসহায় পরিবারের মাঝে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহান আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা হাজী আব্দুল মঈন, সিলেট প্রেসক্লাব-এর সাবেক সহ-সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের ডাকের সিনিয়র রিপোর্টার কবি আহমাদ সেলিম, দৈনিক সিলেটের ডাকের সাব-এডিটর ও প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আনাস হাবিব কলিন্স, জগন্নাথপুর টুয়েন্টি ফোর ডটকমের সম্পাদক অমিত দেব, দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি আলী আহমদ ও মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি সুমিত রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনামুল হক রেনু। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা রফিকুল হক।
আব্দুল করিম গনি জানান, ২০২২ সালের মার্চ মাসে পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে ট্রাস্টটি গঠন করা হয়। একই বছরের ২৭ জুলাই কিশোরপুর গ্রামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবারের মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার অর্থ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এসব গ্রামসহ আশপাশের এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে অর্থ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত বছর ১২ লক্ষ অর্থ বিতরণের পাশাপাশি বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিশ্বনাথ উপজেলার আমতৈল গ্রামে দুটি ওয়াটার হাব নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।
দেশের বাইরেও ট্রাস্টের কার্যক্রম চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে গৃহহীন মানুষের জন্য নিয়মিত ফুড ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ১০ ট্রাক পানির বোতল ও ২ ট্রাক বেবি ফুড পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও গৃহনির্মাণ সহায়তা, অসুস্থদের চিকিৎসা ব্যয়, নলকূপ স্থাপন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা, মসজিদে অনুদান এবং মাসিকভাবে অসহায় পরিবারের সহায়তাসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ট্রাস্টটি।
এবারও ১০ লক্ষাধিক অর্থ বিতরণ করতে পেরে সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




