সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরে সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র যানজটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে রোদে পুড়তে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের, এতে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের সারি পড়ে আছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে নলজুর নদীর ওপর নির্মিত আর্চ ব্রিজের আশপাশে যানজট সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, যানজট নিরসনের লক্ষ্যেই নলজুর নদীর ওপর দৃষ্টিনন্দন আর্চ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি উল্টো আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আগে নির্মিত সরু সেতুতে যান চলাচলে সংকুলান না হওয়ায় নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটিও যানবাহনের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌর শহরের বুক চিরে প্রবাহিত নলজুর নদীর ওপর প্রথম পাকা সেতু নির্মিত হয় এরশাদ সরকারের আমলে। সেই সেতু নির্মাণের মাধ্যমে জগন্নাথপুরের সঙ্গে সিলেটের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুনামগঞ্জের ডাবর থেকে জগন্নাথপুর হয়ে রাণীগঞ্জ সেতু পার হয়ে সৈয়দপুর হয়ে ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক চালু হয়, যার ফলে সুনামগঞ্জবাসীর ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তবে বর্তমানে শহীদ মিনার এলাকার পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় সেখানে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা নেই। এছাড়া হেলিপ্যাড এলাকা হয়ে সি এ মার্কেট পর্যন্ত থাকা বিকল্প সেতুটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে শহরের প্রায় সব যানবাহনের চাপ এসে পড়েছে আর্চ ব্রিজের ওপর। ঈদ সামনে থাকায় বাজারে মানুষের ভিড় বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।যানজটে আটকে থাকা সুজন,রবিউল,ইসলাম ও আনহার মিয়াসহ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগেও শহরে যানজট ছিল, এখনও একই অবস্থা। নতুন ব্রিজ নির্মাণের সময় আমরা আশা করেছিলাম হয়তো ভোগান্তি কমবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডির সোহরাব হোসেন বলেন, আর্চ ব্রিজের সামনে শহরের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পার্কিং করার কারণেই মূলত যানজট তৈরি হয়। শহীদ মিনার এলাকায় নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে এবং সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আর নলজুর নদীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হেলিপ্যাড থেকে সি এ মার্কেট পর্যন্ত বিকল্প সেতুটি অপসারণ করা হয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে জগন্নাথপুর পৌর শহরের যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। শহরবাসী এখন এমন একটি স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন চলাচলকে স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




