ছবি:সংগৃহীত
জগন্নাথপুরের কৃতী সন্তান, দুইবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক আবু খালেদ চৌধুরীর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (২৩ মার্চ)। ২০০৩ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মরহুম আবু খালেদ চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত সজ্জন, ভদ্র ও অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী। সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলেন। দলমত নির্বিশেষে জগন্নাথপুর উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি পরপর দুইবার বিপুল ভোটে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
১৯৪৩ সালের ২৩ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ছিলেন শিক্ষক। চাচা আব্দুল বারী চৌধুরী ছিলেন সুনামগঞ্জ লোকাল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (এমএলএ)।
শিক্ষাজীবনে তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। নিজ গ্রামের আশারকান্দি জ্যাকির মোহাম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে সুনামগঞ্জ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি অধ্যাপনা, আইন পেশা ও সাংবাদিকতায় সমান দক্ষতার পরিচয় দেন। রাঙামাটি ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা তিতুমির কলেজ, ঢাকা ডিগ্রি কলেজ এবং সিলেট এমসি কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকে ‘জালালাবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন প্রখর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি সর্বদা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে ‘ইতিহাসের আলোকে হযরত শাহজালাল (রহ.)’, ‘উপজেলা সংবাদ’ এবং ‘বাংলাদেশে নির্বাচনী গণতন্ত্র বিশ্লেষণ’ উল্লেখযোগ্য।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ তাঁর নিজ বাড়ি সংলগ্ন আশারকান্দি জামে মসজিদে মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




