সংগৃহিত
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে শনিবার সকালে একটি বাঁধ ভেঙে পড়লে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ঢুকে ফসল তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় হাজারো কৃষক টানা চার ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টায় বাঁধটি রক্ষা করতে সক্ষম হন।
ঘটনাটি ঘটে হাওরের মেলানি অংশে থাকা উজাউনি বাঁধে। সকালে প্রথমে বাঁধে ছোট একটি নালা তৈরি হয়। কয়েকজন কৃষক তাৎক্ষণিকভাবে সেটি বন্ধ করার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ভাঙন বড় আকার ধারণ করলে হাওরে দ্রুত পানি প্রবেশ করে এবং কিছু জমির পাকা ধান তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিন উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে আশপাশের মানুষকে বাঁশ ও বস্তা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। তবে বাঁধটি হাওরের গভীরে হওয়ায় লোকজন জড়ো হতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। পরে হাজারো কৃষক একযোগে কাজ করে চার ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধটি সামাল দেন।
আস্তমা গ্রামের কৃষক মহিব মিয়া বলেন, তাঁর ১২ কেদার জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। তাঁর অভিযোগ, উতারিয়া বাঁধের পানি নিষ্কাশনের পথ খোলা থাকলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
স্থানীয়দের মতে, অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। উতারিয়া বাঁধের কারণে পানি নদীতে নামতে না পারায় মেলানি অংশে চাপ বাড়ে। পানি নামানোর জন্য গত বুধবার ওই বাঁধের কিছু অংশ কেটে দেওয়া হলেও পরে প্রশাসনের নির্দেশে তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলেই পানির চাপ বাড়তে বাড়তে উজাউনি বাঁধ ভেঙে পড়ে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, ভাঙা বাঁধটি পাউবোর আওতাধীন নয়। স্থানীয় কৃষকেরাই প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণ ও অপসারণ করে থাকেন। অতিবৃষ্টির চাপেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং বাঁধটি যাতে পুনরায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেখার হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর, যার মধ্যে আবাদি জমি ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। এবার অতিবৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতায় হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
এ বছর সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। আর মাত্র এক সপ্তাহ পর থেকেই হাওরে ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




