হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৪:০৭ PM

হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/০৫/২০২৬ ০৯:১৭:০৭ PM

হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

সংগৃহিত


হাওরাঞ্চলের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করা এবং হাওরের সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে হাওর পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, হাওর অঞ্চলে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয় বরদাস্ত করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরই সহায়তা দিতে হবে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাসের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং এ জন্য বিশেষ কার্ড প্রদান করা হবে।

সুনামগঞ্জ একফসলি এলাকা হওয়ায় কৃষকদের এই ফসলের ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হাওরে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে ছোট ছোট কৃষক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও সাইরেনের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে দুর্যোগের সময় কৃষকেরা দ্রুত আশ্রয় নিতে পারেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে সরকার কোনো আপস করবে না। হাওরের জলাবদ্ধতা ও পানির সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে কৃষকেরা এমন সংকটে না পড়েন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার আশরাফুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সুনামগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পাল। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

পরে বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ কৃষকের মধ্যে সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রত্যেককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ২০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সহায়তা টানা তিন মাস অব্যাহত থাকবে।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ