ছবি: জৈন্তা বার্তা
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। ঈদের ছুটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে এসেছেন এই পর্যটনকেন্দ্রে। পাহাড়ঘেরা ঝরনা, সবুজ বনানী আর জলপ্রপাতের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে অনেকেই হতাশ হয়েছেন অব্যবস্থাপনা, নোংরা পানি ও পরিবেশের অবনতির কারণে। একসময় স্বচ্ছ জলধারা আর পরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য বিখ্যাত মাধবকুণ্ড এখন যেন হারাতে বসেছে তার আগের সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য।
শুক্রবার (২৯ মে) সরেজমিনে মাধবকুণ্ড পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভ্রমণে আসা মানুষজন জলপ্রপাতের পাশে ছবি তুলছেন, পাহাড়ি পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন। তবে পর্যটকদের অনেকেই অভিযোগ করেন, আগের মতো স্বচ্ছ পানি এখন আর নেই। জলপ্রপাতের নিচের পানি ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিক বোতল, খাবারের প্যাকেট ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বিয়ানীবাজার থেকে আসা পর্যটক শামসুল আলম বলেন, ‘ছোটবেলায় মাধবকুণ্ডে এসে যে নির্মল পরিবেশ দেখেছিলাম, এখন তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। পানি আগের মতো স্বচ্ছ নেই, চারপাশেও অপরিচ্ছন্নতা চোখে পড়ে। এত সুন্দর একটি জায়গা আরও যত্নে রাখা দরকার।’
তাহমিনা লিজা বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখনো আছে, কিন্তু পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম ও বসার স্থান বাড়ানো প্রয়োজন।’
ঢাকা থেকে আসা শিলা বলেন, কয়েক বছর আগে এসেছিলাম অনকে সুন্দর ছিলো কিন্তু এখন নোংরা হয়ে গেছে। পানিতে নামতে ভয় লাগে এতো ময়লা পানি। পাথরগুলো নেই, একটা পাকা ছাওনি বানানো হয়েছে যা বিরক্তিকর। এর চেয়ে কক্সবাজারের মতো ছতা ও চেয়ার রাখলে সুন্দর হতো।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটক বাড়লেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেকেই অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে মাধবকুণ্ড আবারও দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিত দোকানপাট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পর্যটকদের অসচেতন আচরণের কারণে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক ভারসাম্য। একসময় পাহাড়ি ঝরনার স্বচ্ছ পানি আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এ অঞ্চল এখন শব্দদূষণ ও ময়লার চাপে সৌন্দর্য হারাচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। তবে পর্যটকদের দাবি, শুধু নিরাপত্তা নয়, মাধবকুণ্ডের হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




