ছবি:সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নে পাঁচপীর বৈঠাং জালাই সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নিয়ম না মেনে কাজ করায় সড়কের কার্পেটিং হাত দিয়ে টানলেই উঠে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে পাঁচপীর জালাই এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ সভা করেন। পরে উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করে কাজের বিভিন্ন ত্রুটি খুঁজে পান বলে জানান।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন, ফজলুর রহমান, শামীমা বেগম, আফতার আলী, আব্দুর রহিম, রাজিব আহমদ রাজু, আলম আহমদসহ অনেকে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় জয়চন্ডী ইউনিয়নের পাঁচপীর বেঠাং জালাই সড়কে মাহমুদ আলীর দোকানের সামনে থেকে বৈঠাং জালাই আমুলী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের জন্য ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ১৫৩ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনকর্ড এন্টারপ্রাইজ।
২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। পরে কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, পাঁচপীর জালাই, বৈঠাং জালাই, গোগালি ছড়া ও মেরিনা চা-বাগানের মানুষ উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে এই সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী জুড়ী উপজেলার কয়েকটি এলাকার মানুষও বিকল্প সড়ক হিসেবে এটি ব্যবহার করেন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এ এলাকায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে তাদের অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে কাজ করছে না। নিম্নমানের ইটের খোয়া ও বালু ব্যবহারের পাশাপাশি বৃষ্টির মধ্যেই কার্পেটিং কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে হাত দিয়ে টান দিলে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “কাজে কোনো অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে। পাহাড়ি টিলা এলাকায় সড়ক হওয়ায় বৃষ্টির কারণে কয়েকবার মেরামত করতে হয়েছে। কাজ বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সড়কটি পরিদর্শন করেছি। চলমান কাজে যেসব ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার পর তা বুঝে নেওয়া হবে। কাজ সন্তোষজনক না হলে ঠিকাদারের বাকি বিল পরিশোধ করা হবে না।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




