ছবি:সংগৃহীত
ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায়ে কাজ করছে ইউকে এনআরবি সোসাইটি। একই সঙ্গে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে নগরের জিন্দাবাজারের মেহমান রেস্টুরেন্টের ভিআইপি হলরুমে সিলেটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ইউকে এনআরবি সোসাইটির পরিচালক এম জুনেদ আহমদ বলেন, বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট সচল রাখতে যুক্তরাজ্য ও সিলেটে একযোগে আন্দোলন চালিয়েছেন প্রবাসীরা। দীর্ঘদিনের দাবির পর সরকার প্রবাসীদের এই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে।
তিনি বলেন, ইউকে এনআরবি সোসাইটি শুধু বিমান চলাচলের বিষয়েই নয়, ব্রিটেনপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সব যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করছে। প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের পরিচালক এম জামাল উদ্দিন বলেন, সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট কখনোই অলাভজনক ছিল না। অলাভজনক রুটের অজুহাতে আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি মহলের প্রভাবে এ রুটের ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, গত রোববার ও বুধবার ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে আসা দুটি ফ্লাইটে একটি আসনও খালি ছিল না। চার মাস বন্ধ থাকার পরও শতভাগ যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালিত হওয়া প্রমাণ করে, এ রুটের চাহিদা সবসময়ই ছিল। তিনি এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রবীণ সাংবাদিক মুকতাবিস উন নূর বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সিলেটের প্রবাসীরা নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যকর না করায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে না। ফলে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং ভোগান্তিও বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন বলেন, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের বাংলাদেশিদের দেশের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে। তারা দেশে নিয়মিত এলে দেশপ্রেমের পাশাপাশি বিনিয়োগেও আগ্রহী হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক লিয়াকত শাহ ফরিদী, সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ইকরামুল কবির এবং ইউকে এনআরবি সোসাইটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম।
সাংবাদিক ওয়েছ খছরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট বানীর নির্বাহী সম্পাদক এম এ হান্নান, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ইমজার সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান, দৈনিক বৃহত্তর সিলেটের মানচিত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফয়ছল আহমদ বাবলু, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ূন কবির লিটনসহ সিলেটের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সংগঠনের নেতারা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




