নৌকা
হাওরে বাড়ছে পানি। বর্ষাকে মোকাবেলা ও প্রস্তুতি নিতে ছোট বড় নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। এছাড়াও কারিগরদের পাশাপাশি পুরোনো নৌকা গুলোও মেরামতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন হাওরাঞ্চলের নৌকার মাঝিরা। হাওরঞ্চলের বাসিন্দাদের সারা বছর নৌকা তৈরির কাজ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমের জন্য অপেক্ষায় থাকেন কারিগররা।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সাচনাবাজার ইউনিয়নের নজাতপুর, হরিহরপুর, শেরমস্তপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কারিগররা তাদের নিজের হাতের ছোঁয়ায় কেউ ছোট নৌকা কেউ বড় নৌকা বানাচ্ছেন। কেউ নৌকাগুলো রঙ করতে আলকাতরা মাখছেন। কেউ করাত দিয়ে কাটছেন, কেউ হাতুরি দিয়ে নৌকায় পেরেক লাগাতে ব্যস্ত।
নজাতপুর গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, আমি ছোট বেলা থেকেই নৌকা তৈরি করি। বড় নৌকার চেয়ে ছোট নৌকার চাহিদা বেশি। প্রতিটি ১৪ হাতের নৌকা বানাতে ৭ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি করা হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়। এসব নৌকায় আম, মেহগনি, বড়ই, কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ব্যবহার করা হয়।
একই এলাকার ব্যাপারী শাহাব উদ্দিন বলেন, শুকনা মৌসুমে নৌকা তৈরির কাঠ কেনার জন্য কেউ কেউ আসেন কিন্তু সে সময়টা ব্যবসা মন্দা থাকে। তখন নৌকা তৈরির কারিগররা খুব কষ্টে সময় পার করে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আসলে নৌকার ব্যবহার বেড়ে যায় হাওরের মানুষের। হাওরাঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের বাহন হিসাবে নৌকাই একমাত্র ভরসা।
তিনি জানান, কারিগর অনুযায়ী প্রতিদিন প্রতিদিন ২ জনে ১ থেকে ২টি নৌকা তৈরি করে। ছোট নৌকা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। একেকটি নৌকা তৈরির জন্য কারিগররা পারিশ্রমিক নেয় ৬ থেকে ৭ শত টাকা। জামালগঞ্জের সাচনাবাজারে সপ্তাহে প্রতি সোমবারে হাট বসে। হাটের দিনে বিভিন্ন কারিগর নৌকা নিয়ে হাটে আসে। সেই হাটেই তারা তাদের নৌকা বিক্রি করেন। এছাড়াও কোন কোন মালিক নৌকা তৈরির জন্য কারিগরদের রোজ হিসাবে কাজ করান।
হরিহরপুরের কারিগর হরিদাস বলেন, সারা বছর বিভিন্ন এলাকায় ঘর বাড়ি মেরামত করি। কিন্তু বর্ষার সময় এলে নৌকা তৈরির কাজ করি। এই সময় নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। তিনি জানান, ১টি নৌকা তৈরি করতে ২ জন কারিগরের ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যায়। প্রতি কারিগরকে মজুরি দিতে হয় ৭ থেকে ৮ শত টাকা। কাঠের দাম ও হেলপারের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় লাভ তুলনামুলক কম হয়। লাইনে চালানোর জন্য একটি বড় নৌকা বা ট্রলার তৈরি করতে ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়।
উপজেলার সাচনাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাসুক মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নে বর্ষায় একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম যেতে, মাছ ধরার জন্য এবং মানুষ পারাপারের জন্য নৌকা ব্যবহার হয়।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




