পাথর কোয়ারি খোলা নিয়ে আশার সঞ্চার
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ PM

পাথর কোয়ারি খোলা নিয়ে আশার সঞ্চার

নজরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/০৯/২০২৬ ০২:২৯:৪৫ PM

পাথর কোয়ারি খোলা নিয়ে আশার সঞ্চার

ছবি : সংগৃহীত


পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার পাথর শ্রমিকরা। জীবিকার প্রধান অবলম্বন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক পরিবারে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। একদিকে কর্মসংস্থানের অভাব, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার বাধ্যবাধকতা—দুইয়ের সমন্বয়ে পাথর কোয়ারি নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্ধ পাথর কোয়ারিগুলোতে ফের পাথর উত্তোলন শুরুর দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন পাথর ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। তাদের দাবি, সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত। কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের পাশাপাশি পরিবহন, ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের বিরোধিতা করে আসছেন পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় পাথর কোয়ারি চালুর বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সিলেটে সরকারি সফরে এসে সার্কিট হাউজে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পাথর ও বালু উত্তোলনসংক্রান্ত বিষয়টি তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরিবেশ, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান জড়িত। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও জরুরি। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনসহ সীমান্ত এলাকার ঝুঁকির বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থার সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

কাজ হারিয়ে অসহায় শ্রমিকরা

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার পাথর শ্রমিকদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে কোয়ারিকেন্দ্রিক শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। কোয়ারি বন্ধ থাকায় অনেকে পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ দিনমজুরির কাজ করছেন, কেউবা বেকার অবস্থায় পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

শ্রমিকদের ভাষ্য, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় শুধু কোয়ারিতে কাজ করা শ্রমিকরাই নন, পাথর পরিবহন, ভাঙা, বাছাই, নৌযান ও সংশ্লিষ্ট ছোট-বড় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিপুল সংখ্যক মানুষও আয়-রোজগার হারিয়েছেন। তাদের দাবি, পরিবেশের ক্ষতি না করে বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের সুযোগ তৈরি করা হলে একদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সিলেটের পাথর কোয়ারি ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন—পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা শ্রমিকদের জীবিকার পথ খুলে দেওয়া যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কর্মসংস্থান ও পরিবেশ—দুই বিষয়কেই বিবেচনায় নেওয়ার যে বার্তা এসেছে, তাতে কোয়ারি-নির্ভর শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জৈন্তাবার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ:

রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে শাহপরান (রহ.) মাজারের প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক
ছাতকে ৪ লেন সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন এমপি মিলন
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট করতে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্প
জৈন্তাপুর রাংপানি নদীতে ১২ বারকি নৌকা বি/নষ্ট, বালু উত্তোলনকারীকে জ/রিমানা
ওসমানীনগরে মসজিদের সরকারি রাস্তায় গেট বসিয়ে পথরো/ধ
বিএনপি নেতা জালাল উদ্দীন ফারুকীর বিরুদ্ধে চাঁ/দা দাবির অ/ভিযোগ
সোলার প্যানেল অকেজো লোডশেডিংয়ে ভরসা ভাড়ার জেনারেটর
মঙ্গলবার আসছেন রাষ্ট্রপতি শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রস্তুতি পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন: সিসিক প্রশাসক