সংগৃহিত
ভারতের কাশ্মীরে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবক নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের সেখানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। দাবি করা টাকা না দিলে তিন যুবককে হ/ত্যা করা হবে-এমন হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নিখোঁজ তিন যুবক হলেন—ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলা উদ্দিন।
এ ঘটনায় সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিমের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। গত আগস্টের শেষ দিকে থানায় এবং ৭ সেপ্টেম্বর জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন সামতেরা বেগম।
এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গে দেখা করে নিখোঁজ তিন যুবককে উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ তিন যুবকই দিনমজুর। অভিযুক্ত ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের ভারতে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলেন। পরে গত ২৮ জুলাই তিন যুবককে নিজ বাড়ি থেকে ভারতের কাশ্মীরের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভারতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিন যুবকের যোগাযোগ ছিল। তবে একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর প্রায় এক সপ্তাহ পর ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম স্বজনদের জানান, তিন যুবক কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, তাদের কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনতে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিন যুবকের মুক্তির বিনিময়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাদের হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সোহেলের মা।
সামতেরা বেগম বলেন, “আমার ছেলে সোহেলসহ তিন যুবককে কাশ্মীরে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তাদের মুক্তির জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দ্রুত তাদের উদ্ধার চাই।”
অভিযুক্ত ফারুক মিয়া বলেন, তার ছেলে ফাহিম ভারতে রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনিও ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, 'কাজের উদ্দেশ্যে ছাতকের তিন যুবককে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে আটকে রেখে টাকা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি একজন কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




