ছবি:সংগৃহীত
সিলেটে পুলিশি হেফাজতে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় পুলিশের দুই কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশীদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অপর তিন আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।
সাত বছর করে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন পুলিশের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আশেক এলাহী, এসআই হাসান উদ্দিন ও সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল নোমান।
মামলার প্রধান আসামি এসআই আকবরের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার খবরটি এমন সময়ে এল, যখন তাঁর জামিন ও আদালতে আত্মসমর্পণ না করা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর জামিন স্থগিত করা হয় এবং তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি আদালতে হাজির হননি বলে মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
যেভাবে হত্যা করা হয় রায়হানকে
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর সকালে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। তিনি নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সিলেটজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বিচারের দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে আন্দোলনে নামেন।
তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া
ঘটনার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবরসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করে।
২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাটের দনা সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পিবিআই। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




