ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিধিমালাকে স্বাগত
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন

অস্পষ্টতা দূর করার দাবি সংগ্রাম পরিষদের

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিধিমালাকে স্বাগত

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/১১/২০২৬ ০৯:৪৪:৪২ অপরাহ্ন

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিধিমালাকে স্বাগত

ছবি:সংগৃহীত


ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকের জন্য সরকারি বিধিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ। তবে বিধিমালার বিভিন্ন অস্পষ্টতা ও অসংগতি দূর করে বিদ্যমান যানবাহনকে কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দেওয়া, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কমানো, চালকদের লাইসেন্সের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সিলেট নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডে সংগঠনের কার্যালয়ে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মীসভায় বক্তারা এসব দাবি জানান।

সংগ্রাম পরিষদের সিলেট জেলা শাখার সভাপতি শহিদ আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা আবু জাফর, মনজুর আহমদ, আনিছুর রহমান, সৈকত আহমদ, মিজান মিয়া, অজয় পাল, আব্দুল্লাহ, হোসেন আহমদ, সমছু মিয়া, রণি আহমদ, দুলাল মিয়া, মাহফুজ আহমদ ও সজিব মিয়া প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, ২০১৩ সাল থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন, যানবাহনের নিবন্ধন, চালকদের লাইসেন্স এবং রুট পারমিট প্রদানসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে সংগ্রাম পরিষদ। এ খাতের সঙ্গে প্রায় ৬০ লাখ যানবাহন ও তিন কোটি মানুষ যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ ১৩ বছর পর হলেও প্রথমবারের মতো ব্যাটারিচালিত যানবাহনের জন্য আনুষ্ঠানিক বিধিমালা প্রণয়নের সরকারি সিদ্ধান্তকে সংগঠনটি প্রাথমিকভাবে স্বাগত জানায়। তবে এতে বেশ কিছু অস্পষ্টতা ও অসংগতি থাকায় সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

বক্তারা বলেন, বিধিমালায় সিটি করপোরেশনের বাইরের জেলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি। বিষয়টি পরিষ্কার না হলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে। এ ছাড়া ই-রিকশার জন্য বুয়েট-স্বীকৃত আদর্শ কাঠামো অনুসরণের কথা বলা হলেও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নকশার সুনির্দিষ্ট বিবরণ বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে চলাচলরত যানবাহনগুলোকে ওই কাঠামোয় রূপান্তরের জন্যও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

তারা বলেন, বিধিমালাকে বিদ্যমান যানবাহন উচ্ছেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বরং গাড়ির কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে দুই বছর সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে ই-রিকশার আবেদন ফরমে কাঠামোগত সংশোধনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তারা।

নিবন্ধন ও নবায়ন ফি নির্ধারণের বিষয়েও আপত্তি জানান বক্তারা। তারা বলেন, দুই আসনের ই-রিকশার জন্য এককালীন আট হাজার টাকা নিবন্ধন ফি ও প্রতিবছর চার হাজার টাকা নবায়ন ফি এবং চার আসনের ই-রিকশার জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা নিবন্ধন ফি ও প্রতিবছর পাঁচ হাজার টাকা নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফি চালক ও মালিকদের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কমাতে হবে।

চালকদের লাইসেন্সের বিষয়টি বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত না থাকার সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রধান অংশীদার চালক হলেও বিধিমালার সাতটি অধ্যায়, ২১টি ধারা ও চারটি তফসিলের কোথাও চালকের লাইসেন্সের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অথচ বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতিসহ বিভিন্ন কারণে চালকদের শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের সুপারিশের জন্য কমিটি গঠনের কথা থাকলেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা বিআরটিএকে বিধিমালায় যুক্ত করা হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, বিধিমালার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিআরটিএকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় যানবাহনের ফিটনেস ও চালকদের দক্ষতা যাচাই কঠিন হবে। এতে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে নিরাপদ পরিবহনে রূপান্তরের লক্ষ্যও ব্যাহত হতে পারে।

চার্জিং স্টেশন স্থাপন, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বিশেষ মিটার অনুমোদন এবং গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও বিধিমালায় স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকার কথা উল্লেখ করেন বক্তারা।

সভা থেকে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ পরিহার করে প্রকৃত চালক ও মালিকদের লাইসেন্সপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাসহ সারা দেশে বিধিমালার আওতা স্পষ্ট করা, যানবাহনের আদর্শ কাঠামো সুনির্দিষ্ট করা, কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দেওয়া, নিবন্ধন ও নবায়ন ফি কমানো এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিআরটিএ ও চালকদের লাইসেন্সের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ