এবার ঈদের হাট মাতাবে ১৫ মন ওজনের মন্টু মিয়া
যেমন লম্বায়, তেমনই উচ্চতাও গরুটির। ১৫ মন ওজনের গরুটি চলে হেলে দুলে। শান্ত স্বভাব চরিত্রের গরুটির নাম রাখা হয়েছে মন্টু মিয়া। রাজকীয় খাবার দেওয়া হয় মন্টু মিয়াকে। সবুজ ঘাস ও দানাদার খাবার এবং কমলা, মালটা, ভুট্টা, ছোলা,চালেরগুড়াসহ প্রতিদিন দেরহাজার টাকার খাবার দিতে হয় তাকে।
শাহিওয়াল জাতের ১৫ মণ ওজনের ষাঁড়টি বিশেষভাবে পালন করছেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাসন নগর এলাকার বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান। প্রতিদিন গরুটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন নানা প্রান্তের মানুষ। এবার সুনামগঞ্জের কুরবানির পশুর হাটের আলোচিত গরু মন্টু। ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা।
গরুটি দেখতে তৈয়বুরের বাড়িতে মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বিকালে বাড়িরপাশে সরকারি কলেজের সামনের রাস্তার বড় জায়গায় রাখা হয়। দর্শনার্থীরাও গরুটি দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। গরুর পাশে দাঁড়িয়ে কেউ তুলছেন ছবি কেউ বাহ করছেন টিকটক ভিডিও। এসময় কলেজ শিক্ষার্থী তাবাসুম আন্নী বলেন,‘আমার কলেজের অনেক ফ্রেন্ডের কাছে কলেজের পাশের বাড়িতে জেলার সবচেয়ে বড় গরু পালন করছে, এটা এবার ঈদে বিক্রি হবে। আজ এসেছিলাম দেখার জন্য, দেখলাম সত্যি ভালো লেগেছে। আমিও এমন গরু লালনপালনের অনেক ইচ্ছে করি।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আরপিনগর এলাকার বাসিন্দা সায়মন আহমেদ শিহাব এসেছেন মন্টুকে দেখার জন্য। তিনি গরু দেখে বলেন সুনামগঞ্জ এরিয়ার মধ্যে এতো বড় গরু আর নাই। সুনামগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু এটাই। সুনামগঞ্জ বাজারে এখন গরুর যে দাম অনেক হাই। এর মধ্যে ভাইয়ে ( গরুর মালিক) যে দাম চেয়েছেন, এটা অনেক টা কম মনে হলো। গরুর কালার আর স্বাস্থ্য গোস্ত অনেক ভালো।
মন্টু মিয়াকে বাড়ির ভিতরে পাকা দালান রুমে অতি যত্নে রাখা হয়েছে। রুমের মধ্যে আলো-বাতাস ঢুকার জন্য জানালার পাশাপাশি চার দিকে লাইট ও দুইটা ফ্যান দেওয়া হয়েছে। দৈনিক সকালে ও বিকেলে মন্টুর সেবায় নিয়োজিত আছে ৪ জন। সময়মতো তিনবেলায় রাজকীয় গোসল করানো থেকে শুরু করে খাবার খাওয়ানোর কাজ করে থাকেন। মন্টুর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৫ ফুট, দৈর্ঘ্য সাড়ে ৮ ফুট ও প্রস্থ প্রায় ৩ ফুট।
গরুকে দীর্ঘদিন লালন পালনের ব্যস্ত সময় পার করছেন আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, আমাদের এই গরুকে দেখার জন্য অনেক মানুষে আসছে। বাড়িতে প্রতিদিন ভিড় থাকে। অনেক সময় আমরা খাবার দাবার রেখেও মানুষকে গরুটা দেখাইয়া কারণ জেলার মধ্যে সবচেয়ে আমাদের গরুটা বড়। এবার কুরবানির হাটে উঠবে।
গরুটির মালিক তৈয়বুর রহমান বলেন, গরু টা আমার গাভির ঘরের বাচ্চা। এটা শাহিওয়াল জাতের গরু। আমি সাড়ে তিন বছর থেকে লালন পালন করছি। গরুটার চার দাত ( সাড়ে তিন বছর বয়স ) হয়েছে। এই গরুটা যখন আরও ছোট ছিলো তখনও ভালো দাম হয়েছিলো। আমার বিক্রি করার ইচ্ছে নাই তাই আমি গতবার হাটে নেই নি বাসায় এসে অনেকে দামদর করে গেছে। পরে আমি একটা বছর অনেক কষ্ট করে লালন পালন করছি। ২০২২ সালের বন্যার কথা বলেতো কোনো লাভ নেই, তখন তারে বাচিয়ে রাখতে অনেক কষ্ট হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিদিন হাজার বারোশ টাকার খাদ্য খায়, এদিকে গো খাদ্যের দাম আকাশ চুম্বি। গরুর পেছনে আমার অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আমি অনেক পত্রিকা টিভিতে দেখেছি এরকমের সাইজের অনেক গরু ৩০ লাখ,৩৫ লাখ দাবি করে। তবে আমার গরু ১৫ মন প্লাস হবে। আমি এর দাম চাচ্ছি মাত্র সাড়ে ৫ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, অনেক ক্রেতা এসেছেন কিন্তু আমি গরুটা বিক্রি করিনি, আমার আসা ছিলো কুরবানি ঈদে যে কোনো মানুষ আল্লাহের ওয়াস্তে এই গরুটা কুরবানি দেউক। তাই আমি এটারে কুরবানি ঈদের জন্য রেডি করেছি। 'এবার ঈদে সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় গরু মন্টু মিয়া, আমার গরু ক্রেয় করতে চাইলে আমার সাথে যে কেউ মুঠোফোন 01793-483606 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।
এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাটে পশুর সরবরাহ বাড়লেও তেমন জমে ওঠেনি। জেলার বিভিন্ন গরুর হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাটে বিভিন্ন জাতের গরু রাখা হয়েছে। ছোট, বড়, মাঝারি সাইজের গরু ক্রেতারা পছন্দ করলেও অতিরিক্ত দামের জন্য কিনতে পারছেন না। তবে ব্যাপারীরা জানিয়েছেন হাটে বেচাকেনা একেবারেই কম। ক্রেতাদের অভিযোগ অন্যবারের চেয়ে এবারের দাম চড়া।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, এ বছরে সুনামগঞ্জে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে ৫০ টিরও বেশি গরু-ছাগলের হাট বসার কথা রয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাটে মোট ৪০ হাজার গবাদিপশু উঠবে। যার বাজার মূল্য ৪০০ কোটি টাকা। প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, হ্যাঁ গত কদিন থেকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কার জন্যে সব উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছি।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




