সুনামগঞ্জ নির্বাচন অফিস
প্রবাসী এলাকা হিসেবে পরিচিত সিলেটের সুনামগঞ্জ, এই জেলার অধিকাংশ লোক প্রবাসী। প্রতিবছর প্রবাসীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে আসছে। তবে সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসে প্রায় প্রতিদিনই শ’খানেকের উপরে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন হয়ে থাকে। অভিযোগ আছে জাতীয় সংশোধনে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়।
সুনামগঞ্জ জেলার নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাসের পর মাস ঘুরেও ভুল সংশোধন করা যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনের পর দিনে ভুল সংশোধন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে ঘুরে সেবা না পেয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়ছেন ভুক্তভোগীর। সুনামগঞ্জে প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল থাকার ফায়দা তুলেন এই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে ভোগান্তিতে এ জেলার হাজারও সেবাপ্রার্থী।
জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্রে রয়েছে নানা ধরনের সমস্যা। একেক জনের একেক সমস্যা। কারো নামে ভুল, কারো বাবা-মায়ের নামে, কারো ঠিকানা ভুল, কারো বয়স ঠিক নেই। এছাড়াও দেখা গেছে কারো বাবার নামের স্থলে স্বামীর নাম, কারো স্বামীর বয়সের চেয়ে স্ত্রীর বয়স কার্ডে উঠে গেছে বেশি। এসব সমস্যা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।
এ বিষয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক নারী জানান, তিনি বিদেশ থাকেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য তিনি এই অফিসের বিগত ৮ মাস থেকে ঘুরাঘুরি করেও কোন সমাধান পাননি। যদি সংশোধন না হয় তাহলে তাকে খুবই দুর্ভোগে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী অপর এক নারী জানান, আমি প্রবাসী দেশে এসেছি এখানে আসার পর আমার পাসর্পোটের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন নবায়ন করতে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন কিন্তু পাসপোর্টের সাথে মিল না থাকার কারণে নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না এখন সংশোধন করতে দিয়েছি। কিন্তু গত ছয়মাসে বারবার আসার পরও আমার কাজটি হয়নি। যতবারই এসেছি অফিস থেকে বলা হয়েছে, স্যার নেই, আজকে হবে না কালকে আসেন। অবশেষে বিভিন্ন ঢকুমেন্ট কথা বলে আমার এই সংশোধন আবেদন বাতিল করে দেয়া হয়েছে এখন আর আমি প্রবাসে যেতে পারব বলে মনে হয়না।
অপর ভুক্তভোগী জানান, আমি প্রবাসে যাবো। কাগজপত্র সব ঠিক করে গত দুই মাস আগে অফিসে দিয়েছি। কিন্তু তারপরও আমার কাজটি হচ্ছে না। এনআইডি সংশোধন ছাড়া পাসপোর্ট করতে পারছি না, বিদেশ যাবো কীভাবে।
জেলার ছাতক উপজেলার আব্দুল মতিন জানান, আমার জেএসসি,এসএসসি, এইচএসসি এমনকি স্নাতক পরীক্ষার সনদ দিয়েছি তারপর আমার সংশোধন আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এখন কি করব বুঝতেছিনা।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুরাদ উদ্দিন হাওলাদারে কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি।
এ ব্যাপারে আঞ্চলিক কর্মকর্তা ফয়সল কাদেরের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




