জামালগঞ্জে সাচনা বাজারে চুরির হিড়িক, ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৯:২৭ AM

জামালগঞ্জে সাচনা বাজারে চুরির হিড়িক, ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮/০৭/২০২৩ ০৯:১৩:১২ AM

জামালগঞ্জে সাচনা বাজারে চুরির হিড়িক, ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে

প্রতীকী ছবি


সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজারে গত এক সপ্তাহে ৫টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই চুরি সাথে জড়িত বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 

সাচনা বাজারের পরশ মনি ভান্ডার, হৃদয় বেকারী, জয়বাবা লোকনাথ স্বর্ন শিল্পালয়, ইকড়া ষ্টোরে ঈদের দিন রাতে চুরি হয়েছে।এছাড়াও গত রাত শুক্রবার রাত ১১টায় শ্রী শ্রী লোকনাথ স্বর্ন শিল্পালয়ের বাদল বনিকের দোকানে টিনের চালের নাট বল্টু খুলে ২টি স্বর্ণের চেইন ২ জোড়া কানের দোল ২০ টি নাককোল সহ আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার মালামাল চুড়ি হয়। বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বাজারের আশপাশের চুরেরা এইসব চুড়ির ঘটনার সাথে জড়িত।

এই ব্যপারে স্বর্ণের দোকানের মালিক বাদল বনিক বলেন, শুক্রবার রাত ১১টায় আমার ২ছেলে দোকানের সাটার লাগিয়ে ভাত খেতে গেলে চুরেরা দোকানের পিছনের নাট বল্টু খুলে দোকানে ডুকে পড়ে। আমার ছেলেরা ভাত খাওয়ার শেষে দোকানে এসে সাটার খুলতে গেলে সাটার খুলার শব্দ পেয়ে চুড়েরা টিনের চাল বেয়ে পালিয়ে যায়। এব্যপারে সাচনা বাজার বনিক কল্যান সমিতিকে জানানো হয়েছে। রাতে তাদের পরামর্শ নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হবে। 

সাচনা বাজার জয় বাবা লোকনাথ স্বর্ণ শিল্পালয়ের প্রোপাইটার ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব বনিক বলেন গত ঈদের দিন রাতে আমার দোকানের টিনের চাল খুলে ১০হাজার টাকার রুপার চেইন সহ মালামাল চুড়ি করে নিয়ে যায়। আমি সাচনাবাজার বনিক কল্যাণ সমিতিকে জানিয়েছি। এখনও পর্যন্ত এর কোন সুরাহা হয়নাই। তাদের কাছে বিচার প্রার্থী হওয়ায় আইনের আশ্রয় নিতে পারছিনা। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার আর এক স্বর্ণের দোকানে চুড়ি হয়ে গেল। বাজারের পাহারাদার রাতে থাকেনা, থাকলেও মদ্যপ অবস্থায় থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঐতিহ্যবাহী সাচনা বাজারের সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি নাই বললেই চলে। চোর ধরা খেলেও কোন কোন লোক অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলে ছেড়ে দেওয়া হয়। শুধু আমাদের সম্প্রদায়ে দোকান মন্দির ও আশ্রমে একের পর এক চুড়ি হয়ে আসছে। আমার মনে হয় কোন প্রভাবশালী মহলের যোগ সাজসে এই চুড়িগুলো হচ্ছে। এতে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি নষ্ট করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষে কোন অসুভ শক্তির ইঙ্গিতে এই চুড়িগুলো হচ্ছে। 

সাচনা বাজার বনিক কল্যান সমিতির সহ সাধারন সম্পাদক ও জুয়েলারী সমিতির সভাপতি মানিক বনিক বলেন সাচনা বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন অরক্ষিত অবস্থায় আছে। পাহারাদার বাড়িতে ঘুমিয়ে আমাদের কাছ থেকে বেতন নেয়। বার বার চুড়ি হলেও এর কোন প্রতিকার পাওয়া যায়না। যার কারনে আমরা স্বর্নব্যবসায়ীরা আতংকিত অবস্থায় আছি। 

উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি পুর্নেন্দু ঘোষ চৌধুরী বলেন, গত ঈদের দিন রাতে ৪টি দোকানে চুড়ি হয়ে গেছে আজ আবার আর একটি দোকানে চুড়ি হয়েছে। সাচনা বাজার বনিক কল্যান সমিতির বিচারের আশায় তারা থানায় অভিযোগ করেননি। কিন্তু সপ্তাহ পের হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন বিচারের ব্যবস্থা হয়নি। যার কারনে বার বার হিন্দু ব্যবসায়ীদের দোকানে চুড়ি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আতংকে আছেন। 

জামালগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমরেন্দ্র আচার্য সম্ভু বলেন, চুড়ের টার্গেট হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীদের উপর। কারন তারা অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মামলা মোকদ্দমার ঝামেলায় যেতে চায়না। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় চোরদের তার্গেট থাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী মন্দির ও আশ্রমের প্রতি। গত এক সপ্তাহে কয়েকটি দোকানে চোরি হলেও প্রশাসন ও বনিক কল্যাণ সমিতির কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরেরা উৎসাহিত হচ্ছে। 

সাচনা বাজার বনিক কল্যান সমিতির সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল বলেন, এক সপ্তাহে বাজারে ৫টি দোকানের চোরির ঘটনা দু:খ জনক। বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে এই ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মো: আব্দুন নাসের জানান, চোরির ঘটনা আমি শুনতে পেয়েছি। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনাই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জৈন্তাবার্তা/এমকে