মাছ চাষে সাফল্য, বদলে গেছে ভাগ্য
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ PM

সনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে

মাছ চাষে সাফল্য, বদলে গেছে ভাগ্য

মামুন মুন্সি, দোয়ারাবাজার

প্রকাশিত: ২৬/০৮/২০২৩ ০৬:১২:৩৪ AM

মাছ চাষে সাফল্য, বদলে গেছে ভাগ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি



সনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে অনেক বেকার ও অসহায় মানুষের ভাগ্য বদলে গেছে শুধু মাছ চাষকে কেন্দ্র করে। তারা সবাই এখন সচ্ছল জীবনযাপন করছেন। তাদের দেখে প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তারাও হচ্ছেন সফল।

দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের এলাকার বহু মানুষ এখন মাছ চাষের সাথে জড়িত। কথা হয় ওই এলাকার পুরোনো মাছচাষি অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আব্দুর রশিদের সাথে। তিনি প্রথমে ছোট আকারের পুকুরে মাছ চাষ করলেও এখন দশ একর জায়গায় তিনটি ফিশারি তার। আরও ফিশারি বাড়ানোর কাজ চলমান।

তিনি বলেন, মাছ চাষ করে এখন আমি লাভবান। প্রথম যখন মাছ চাষে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা ভাবছিলাম তখন ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হই, তাহলে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব কিনা সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু ভয়কে দূর করে  একটি পুকুর খনন করে বাংলা মাছের চাষ করা শুরু করি। প্রথম বছরই আশার আলো দেখি। তখন ফিশারির সংখ্যা বৃদ্ধি করার সাথে সাথে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করি। বর্তমানে আমি মাছ চাষ করে সফল। গত বছরের ভয়াবহ বন্যার ক্ষতি এবছর কাটিয়ে উঠতে পারবো আশাবাদী। 

তাদের মতো সফলদের অনুকরণ করে এলাকার অনেকে একই ব্যবসা শুরু করেন। তেমনি একজন হাফেজ আব্দুর রউফ তিনি দেখেন তার চোখের সামনেই অনেকে মাছ চাষ করে সফলতা অর্জন করেন। তখনই এলাকার সফল মাছ চাষিদের সাথে পরামর্শ করে মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত হন।

তিনি বলেন, শুরুটা ছোট পরিসরে হলেও এখন তা বৃদ্ধি করে ৬ একর ফিশারিতে মাছ চাষ করছি। তিনি জানান, বছরে তার ৬-৭ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব  মাছ চাষ থেকেই। 

একেবারেই নতুন মাছচাষি ইউনিয়ন সদস্য কামরুল ইসলাম। তিনি ৭ একর জায়গায় দুইটি ফিশারিতে মাছ চাষ শুরু করেন,শুরুতেই সাফল্যের মুখ দেখছেন। 

তিনি বলেন, আমাদের এলাকার মুজিবুর রহমান কে দেখে উৎসাহ পেয়েছি। সফল মাছচাষি মুজিবুর রহমান এ এলাকার নতুন মাছ চাষিদের কাছে অনুপ্রেরণার পাত্র।

মাছ চাষের ফিশারি আর হ্যাচারিতে কাজের সাথে সম্পৃক্ত কয়েকজন শ্রমিক জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করি। যে টাকা বেতন পাই। এ টাকা দিয়েই আমাদের সংসার চালাই।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মন দৈনিক জৈন্তা বার্তা'কে  জানান, এই উপজেলায় ৪ হাজার ৬৬৬টি মাছ চাষের পুকুর রয়েছে বর্তমানে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা মাছ চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগীতা করছি। আশা করছি এই উপজেলার বেকারত্ব মাছ চাষের মাধ্যমে দূর হবে।


এম. এইচ. এ



শীর্ষ সংবাদ: