জনবান্ধব জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১১ PM

জনবান্ধব জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর

সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী

প্রকাশিত: ২৭/০২/২০২৫ ০১:২০:৫০ AM

জনবান্ধব জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর

ছবি : সংগৃহীত


দেশের সাধারণ জনগণের কাছাকাছি সরকারি সেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। তারা সরকারি সকল সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়নসহ জনগণের প্রকৃত সেবায় নিয়োজিত হবেন- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দায়িত্বের বাইরে গিয়েও অনেক সময় যখন কোনো কোনো সরকারি কর্মকর্তা সাধারণ জনগণকে ভালো রাখার জন্য দিনরাত কাজ করেন, আর তাদের কাজের ধারাবাহিক গতি যখন অস্বাভাবিকভাবে ভালো হয়; তখন তারা আপামর জনতার শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হন। এমনই একজন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর। জুড়ীতে যোগদানের পর থেকেই নিজ কর্মগুণে তিনি জয় করেছেন জুড়ীবাসীর মন। 

জুড়ী উপজেলায় যোগদানের পাঁচ মাসের মধ্যে বাবলু সূত্রধর উপজেলার উন্নয়নে অসংখ্য প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার কাছে আসা সব সেবা প্রার্থীকে তিনি হাসিমুখে কাঙ্খিত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সম্পূর্ণরূপে দালালমুক্ত হয়ে সরকারি সেবা পেতে পারেন সেই উদ্যোগ নিয়েছেন। উপজেলায় যোগদানের পর থেকে তার সততা ও কর্মদক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি দপ্তরের কর্মকাÐে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। কমেছে জনভোগান্তি আর বৃদ্ধি পেয়েছে জনসেবার মান। জুড়ী উপজেলাকে একটি উন্নত আধুনিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরালসভাবে কাজ করছেন তিনি। জনবান্ধব এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্মকাÐে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার সৎ জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। 

৩৫তম বিসিএসের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট জুড়ীতে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সরকারি খাস জমি উদ্ধার, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভ‚মিকা পালন, অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা নিশ্চিত করাসহ সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে ইতোমধ্যে তিনি উপজেলায় একজন মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যোগদানের পর তিনি উপজেলার খাস জমি উদ্ধারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেন। বিগত ৫ মাসে তিনি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২ একর খাস জমি উদ্ধার করেন। এছাড়া ইতোমধ্যে তিনি ভিপি লিজের (সরকারি পাওনা) ৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা আদায় করেন। বাবলু সূত্রধর জুড়ীতে যোগদানের পর উপজেলার শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারি কাজে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে উপস্থিতির পাশাপাশি তিনি প্রায়ই বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কলেজ পরিদর্শন করছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে শিক্ষকদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে করণীয় নির্ধারণে তিনি অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করছেন। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝড়েপড়া রোধে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। 

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে সেই লক্ষ্যে উপজেলায় প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষার পূর্বে একটি সমন্বিত পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়টি উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা বিস্তারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অবিভাবকরা। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা যাতে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ইংরেজি শিক্ষায় এগিয়ে যেতে পারে সে লক্ষ্যে তিনি মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের উদ্বোধন করেছেন। পরবর্তীতে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে তার। 

উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলতলা ইউনিয়নের ৬ শতাধিক সাধারণ মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ফুলতলায় ওয়াটার প্লান্ট স্থাপনে ইউএনও কার্যকরী ভ‚মিকা পালন করেছেন। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের প্লান্ট স্থাপন সম্পন্ন হলে সাধারণ মানুষের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রজেক্ট অগ্রণী ভ‚মিকা রাখবে বলে মনে করছেন এই ইউনিয়নের সচেতন মহল। বাবলু সূত্রধর জুড়ীতে যোগদানের পর তিন দফার বন্যায় যখন পুরো উপজেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ঠিক সেই মুহ‚র্তে তিনি বন্যার্ত মানুষের জন্য কাজ করেছেন দিনরাত। শুকনো ও রান্না করা খাবার নিয়ে রাতদিন ছুটেছেন বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে। বন্যার্ত মানুষদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তিনি গঠন করেছিলেন বেশ কয়েকটি মেডিকেল টিম। মেডিকেল টিম গঠন করে তিনি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে ওষুধের ব্যবস্থা করেছেন। 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি জুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি ও মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসহাক আলী বলেন, আমাদের উপজেলার ইতিহাসে এমন জনবান্ধব ইউএনও আমরা আগে দেখিনি। তিনি অল্প কয়েকদিনে যেভাবে সকলের ভালোবাসা পেয়েছেন। তার মতো এমন ভালো লোকের কারণেই এই দেশ একদিন উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাবে। 

উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি অশোক রঞ্জন পাল বলেন, ইউএনও জুড়ীতে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার মান উন্নয়নে জরুরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এমন শিক্ষাবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পেয়ে সত্যিই আমরা গর্বিত। 

উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা বলেন, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার একজন ব্যতিক্রমী জনবান্ধব কর্মকর্তা। তিনি জুড়ী উপজেলায় যোগদানের পর থেকে উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করে যাচ্ছেন। নির্ভীকভাবে ছুটে চলেছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত। প্রতিদিন হাসিমুখে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন দর্শনার্থীদের। 

ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম শেলু বলেন, বর্তমান ইউএনও প্রচন্ড কর্মস্পৃহা সম্পন্ন একজন চমৎকার মানুষ। তার নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আমরা ইউনিয়ন পরিষদে সুন্দরভাবে কাজ করে যাচ্ছি। 

ইউএনও’র এসব সাফল্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক তানজির আহমেদ রাসেল বলেন, সরকারের মাঠ প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এবং মানবসেবক হিসেবে জুড়ী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অসাধারণ একজন মানুষ। সরকারের অর্পিত প্রতিটি দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সাথে তিনি সঠিক ভাবে পালন করে যাচ্ছেন। 

নিজের কর্মতৎপরতা ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাবলু সূত্রধর বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সব সময় চেষ্টা করি মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের। জেনে বুঝে কখনো আমার দায়িত্বে অবহেলা করিনি। যতদিন আছি মানুষের জীবনযাত্রাসহ উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাব।

জৈন্তাবার্তা / রহমান