ছবি: নিজস্ব
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, “চা বাগান পরিদর্শনে আসা পর্যটকদের টিকিট কাটতে হবে। এই প্রবেশ ফি’র অর্থ ব্যয় হবে চা শ্রমিকদের কল্যাণে।”
শনিবার বেলা ১২টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলস্থ বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সভাকক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রথমেই বলেছি এটি চায়ের দামের সঙ্গে সম্পর্কিত। গতকাল শুনলাম, নিলামের যে হার নির্ধারিত রয়েছে, তার চেয়েও বেশি দামে উৎপাদিত চা বিক্রি হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বাড়ানো উচিত। আমাকে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন হবে। তখন আমরা শ্রমিকদের বলতে পারব, এত শতাংশ বেতন বেড়েছে, এখন আপনারাও একইভাবে বাড়ান।”
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন আমার বিষয় না। আমি এসব নিয়ে চিন্তা করি না। যাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা চিন্তা করছেন। নির্বাচন কমিশন রয়েছে, এটি তাঁদের দায়িত্ব, আমার নয়।”
সভায় জুড়ি ভ্যালির সহ-সভাপতি শ্রীমতি বাউড়ি বলেন, “প্রতি বছর বহু নারী চা শ্রমিক জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, কিন্তু চা বাগানে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। নারী শ্রমিকদের জন্য ভালো মানের হাসপাতাল এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শৌচাগারের অভাবে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। তাই চা বাগান এলাকায় শৌচাগার নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
সভায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচন, চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, স্থায়ীভাবে ভূমির অধিকার, নারী শ্রমিকদের জন্য শৌচাগার নির্মাণ এবং জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে দাবি তুলে ধরেন চা শ্রমিক নেতারা।
প্রধান অতিথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এসব দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
এর আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন,মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ইসরাইল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর হোসেন, বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালক মহব্বত হোসাইন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের উপদেষ্টা তপন দত্ত, সহ-সভাপতি পংকজ কন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, কোষাধ্যক্ষ পরেশ কালিন্দী, জুড়ি ভ্যালির সহ-সভাপতি শ্রীমতি বাউড়ি, বাংলাদেশ চা শ্রমিক আদিবাসী ফোরামের সভাপতি পরিমল সিং বাড়াইক, নারী শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু প্রমুখ।
জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার




