সুনামগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে তৃণমূলে প্রচার সভা
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৬ PM

সুনামগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে তৃণমূলে প্রচার সভা

মনোয়ার চৌধুরী

প্রকাশিত: ২১/০৬/২০২৫ ০৯:১৯:১৮ PM

সুনামগঞ্জ সদরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে তৃণমূলে প্রচার সভা

ছবি: নিজস্ব


হাওরে নয়, সুনামগঞ্জ সদরে শহরের কাছাকাছি নন হাওরের সরকারি জমিতে সুনামগঞ্জ বিঞ্জান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবীতে তৃণমূলে প্রচার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ শনিবার ( ২১ জুন ) দুপুরে ‘বৈষম্য ঘোচাতে সুষম উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হোন, সোচ্চার হোন’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্ট্রেশন এলাকায় তৃণমূল প্রচার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

এ তৃণমূলে প্রচার সভায়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা শহরের সুবিধাজনক স্থানে প্রতিষ্ঠিত হোক। বাংলাদেশের উত্তর পর্বঞ্চলের হাওরাঞ্চল নামে খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলা। প্রাতৃতিক সম্পদ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য -সাংস্কৃতি সমৃদ্ধ।সুনামগঞ্জ বিঞ্জান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা শহরে সুবিধায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দাবীতে জেলাবাসীর স্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান হয়।

বক্তরা বলেন, সরকার যদি আমাদের ন্যায্য দাবী মেনে না নেন তাহলে আগামীতে দুর্বার আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। সুনামগঞ্জ জেলা শহরকে অন্ধকার করে শহরের অনেক দুরে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক পরিকল্পনা মন্ত্রীর একক ইচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয়। ফ্যাসিস্ট আমলে মানুষের মতামতের মূল্য দেয়া হয়নি, কেউ কোন কথা বলতে পারেন নি। এখন ফ্যাসিস্ট বিদায় হয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের উচিত অনতি বিলম্বে সুনামগঞ্জ বাসীর দাবী পূরনে শীঘ্রই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। 

আয়োজিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনের যুগ্ম আহবায়ক ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এডভোকেট শামস উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও আন্দোলনের সদস্য সচিব ও জেলা জাসাস সদস্য সচিব মোনাজ্জির হোসেন সুজনের সঞ্চালনায় তৃণমূলে প্রচার সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আকবর আলী, আ ত ম, মিসবাহ, জেলা জাসদ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রুহুল তুহিন, এডিশনাল পিপি এডভোকেট শেরেনুর আলী,রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ হাসান জুনেদ, জি এম তাশহিজ, সিপিবি নেতা এডভোকেট এনাম আহমদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব, এন সিপি যুগ্ম আহবায়ক অনিক রায়,যুবদল নেতা কামরুল হাসান রাজু, তোফাজ্জল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মুনাজ্জির হোসেন, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ সদর বিএনপির আহ্বায়ক ফারুক আহমদ লিলু, কৃষক দল সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম পলাশ, রাকিবুল ইসলাম দিলু, যুবদল নেতা সোহেল আহমদ, আকবর আলী, এডভোকেট নাজমুল করিম, রিপন, ছাত্রদল নেতা শাহ ফরহাদ, তারেক মিয়া, শাহ রাহুল প্রমূখ।

প্রচারপত্রে উল্লেখ রয়েছে, জেলার আপামর মানুষের দাবি উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্চ্যুত সরকারের একজন মন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস তার গ্রামে করার উদ্যোগ নেন। এই নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলে জেলা সদর তথা শহরকে পাশ কাটিয়ে নিজ গ্রামের পাশে দেখার হাওরে করার চেষ্টা করেছিলেন। জেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে ওইস্থানে বিশ্ববিদ্যালয় ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ হলে হাওরে উৎপাদিত বোর ধান, মিঠাপানির মাছসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও হাওরের জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে।

এছাড়াও ইতিপূর্বে ক্ষমতার দাফটে জেলাবাসীর দাবি উপেক্ষা করে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনিস্টিউট, শিল্প ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যুব মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, বিআরটিএ অফিস কাম ট্রেনিং সেন্টারসহ জেলার জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান তার নিজ গ্রাম ও গ্রামের দুই কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন করেছেন। যা জেলাবাসীকে বিক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করেছে বলে প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়।  

এই আন্দোলনের পক্ষে একযোগে সুনামগঞ্জ শহর ছাড়াও দিরাই, ধর্মপাশা সহ অন্যান্য উপজেলায় একই কর্মসূচী পালিত হয়।

জৈন্তাবার্তা / মনোয়ার