হবিগঞ্জে সরকারি ক্লিনিকে দানবাক্স বসিয়ে টাকা আদায়
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জে সরকারি ক্লিনিকে দানবাক্স বসিয়ে টাকা আদায়

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/১০/২০২৩ ১২:১৬:৫৪ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জে সরকারি ক্লিনিকে দানবাক্স বসিয়ে টাকা আদায়

ছবি : নিজস্ব


হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক উন্নয়নের নামে দানবাক্স বসিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সুব্রত কুমার হালদারসহ কর্মরতরা দীর্ঘদিন ধরে এ টাকা আদায় করে আসছেন।

এমনকি হতদরিদ্র রোগীরা ওষুধ আনতে ক্লিনিকে গেলে দানবাক্সে টাকা দেওয়ার পর তাদের ওষুধ দেওয়া হয় বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। তারা জানান, ওষুধ আনতে গেলেই কমিউনিটি ক্লিনিক উন্নয়নের দানবাক্সে টাকা দিতে হয়। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, রোগীদের থেকে এটি বাধ্যতামূলক নেওয়া হয় না। যেসব রোগীর ইচ্ছে হয় তারাই দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে হেলথকেয়ার প্রোভাইডার দায়িত্বে রয়েছেন। এসব ক্লিনিকে প্রান্তিক হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে ৩০ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন।

সরেজমিনে পৌরসভার আজিমনগরে অবস্থিত আজমিরীগঞ্জ কমিউনিটি ক্লিনিকে দেখা যায়, আজমিরীগঞ্জ সিসি লেখা একটি কাঠের বাক্স ঝোলানো রয়েছে। এ সময় ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ওষুধ নিতে গিয়ে ওই বাক্সে টাকা দিচ্ছেন। কেউ ৫ টাকা আবার কেউ ১০ টাকা দিচ্ছেন।

কমিউনিটি ক্লিনিকের কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করে বলেন, ‘ওই ক্লিনিক থেকে ওষুধ আনতে গেলেই টাকা দিতে হয়। ওষুধ থাকা সত্ত্বেও তারা দেয় না। যে কারণে বাধ্য হয়েই আমরা টাকা দিচ্ছি।

সেবাগ্রহীতা ফরজান বিবি বলেন, ‘আমি ওষুধ নিতে এলে তারা বাক্সে টাকা দিতে বলেন। তাই আমি ১০ টাকা দিয়েছি। ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ থাকলেও দানবাক্সে টাকা না দিলে তারা ওষুধ দেন না। তাই টাকা দিয়েই ওষুধ নিয়েছি।’

আরেক সেবাগ্রহীতা রাজু মিয়া জানান, ক্লিনিকে এসে দেখেন অনেকেই দানবাক্সে টাকা দিচ্ছেন। তাই তিনিও ১০ টাকা দিয়েছেন। কেন দিয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘ক্লিনিক থেকে ওষুধ নিতে গেলে টাকা দিতে হয়। তাই টাকা দেওয়ার পর আমাকে এক পাতা (১০টি) প্যারাসিটামল ও কিছু আয়রন ট্যাবলেট দিয়েছে তারা।’

ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা সুব্রত হালদার বলেন, ‘ক্লিনিকের উন্নয়নের জন্য সেবাগ্রহীতারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী দানবাক্সে টাকা দিচ্ছেন। কেউ তাদের টাকা দিতে বাধ্য করেনি। আমরা সবাইকে বিনামূল্যে ওষুধ দিচ্ছি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নির্দেশে ক্লিনিকে দানবাক্স বসানো হয়েছে বলে তিনি জানান।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ক্লিনিকে ৫০ থেকে ১০০ জন সেবাগ্রহীতা সেবা নিচ্ছেন। ক্লিনিকের টুকটাক উন্নয়ন কাজের জন্য সেবাগ্রহীতাদের থেকে দান নেওয়া হচ্ছে। তারা নিজ ইচ্ছায় দান করছেন। কেউ তাদের টাকা দিতে বাধ্য করেনি।

এম সি



শীর্ষ সংবাদ:

ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান সিসিক প্রশাসকের
জগন্নাথপুরে ইঁ দু র মারার বি*ষ খেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃ*ত্যু
আজমিরীগঞ্জে কালনী নদীতে গোসলে নেমে গৃহবধূ নি*খোঁজ সাড়ে চার ঘন্টায় ও উদ্ধার হয়নি
‘দুর্গাপূজা সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের অনন্য মিলনমেলা’
সিলেটে এয়ারপোর্ট থানা এলাকা পরিদর্শনে এসএমপি কমিশনার
কানাইঘাটে সিএনজি অটোরিকশার সিরিয়াল নিয়ে বি/রোধ, যুবককে কু/পি/য়ে হ/ত্যার অভিযোগ
বিএনপি সরকারের ৮ মাসে ৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ
বাস-ট্রাক সং/ঘ/র্ষে নি/হ/ত ১৪ জন
সৌদিতে মৃ/ত্যুদ/ণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি স্বামী-স্ত্রী নন, দুজনই প্রবাসী কর্মী
সকল ধর্মের মানুষের অধিকার নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর: সিসিক প্রশাসক