নতুন রূপে চায়ের রাজ্যে ‘ছোট্ট সাজেক’
রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৩:৫৬ PM

নতুন রূপে চায়ের রাজ্যে ‘ছোট্ট সাজেক’

মহি উদ্দিন, কুলাউড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/১০/২০২৩ ০৫:৩৯:৩৩ AM

নতুন রূপে চায়ের রাজ্যে ‘ছোট্ট সাজেক’

ছোট সাজেক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এই স্থান


লাল টিনের চাল, চারদিকে নেই বেড়া। চোখ খুললেই শুধু সবুজ আর সবুজ। আকাশের নীল এসে যেন দিগন্ত ছুঁয়েছে। যতদূর চোখ যায়, চারদিকে ছোট–বড় সবুজ পাহাড়। বিভিন্ন জাতের রং–বেরঙের ফুল। তারই মাঝখানে লাল–সবুজের পতাকার মতো লাল বৃত্তের জায়গাটা পূরণ করেছে লাল টিনের গোলাকার বেড়াবিহীন একটি ঘর। চায়ের দেশে এ যেন ছোট্ট একটি সাজেক।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হিংগাজিয়া চা-বাগানের ১০ নম্বরে গিয়ে দেখা যাবে এমন দৃশ্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, আগে চায়ের সমাহারে উঁচু পাহাড়ের এক প্রান্তে কাঠ এবং লাল টিন দিয়ে তৈরি একটি ঘর থাকলেও এখন পাহাড়ের বুক চিরে হয়েছে ২টি ছোট লেক। যেটি সেখানের সুন্দর্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। নীল আকাশের নিচে এ ঘরের মধ্যে বসে প্রকৃতির অপূর্ব রূপ দেখা যায়।

সেখান থেকে ছোট–বড় সবুজ পাহাড় দেখতে বেশ ভালোই লাগে। স্নিগ্ধ হিমেল হাওয়া, পশ্চিমে রক্তিম আকাশ আর পাহাড়ের নির্মল সবুজ মিলেমিশে একাকার। পাহাড় থেকে ভেসে আসে নানান প্রজাতির পাখির কাকলি। এ  যেন এক স্বপ্নের দেশ!এই সৌন্দর্যের রাজ্যে না হারিয়ে উপায় নেই। এখানে কখন যে সময় গড়িয়ে যায়, তার হিসাব থাকে না। হিসাব রাখার দরকারও পড়ে না। প্রথমবার গিয়ে মনে হবে অনন্তকাল থাকা যাবে এমন পরিবেশে।

চা-বাগানের অপরূপ সৌন্দর্যের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। বাগানের ভেতর উঁচু টিলায় চা–শ্রমিকদের চায়ের পাতা তুলতে দেখা যায়। দেখা যায়, ঝরা পাতায় রাবার বাগানের অপরূপ দৃশ্য। রাস্তায় পাওয়া যায় বানরের দল, গাছের এক ডাল থেকে আরেক ডালে লাফাচ্ছে। বানর (মা) তার ছোট বাচ্চাকে পিঠের ওপর বসিয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়া মানুষকে দেখে ভয়ে পালিয়ে যায়। এ যেন সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার এক বাস্তব উদাহরণ।

সবুজের গালিচা বিছান চা–বাগানের অপরূপ দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমী যে কারও মনকে আন্দোলিত করবে। সবুজ চায়ের ঘ্রাণ মনটাকে প্রফুল্ল করে তুলবে। তখন মনের অজান্তেই গুনগুনিয়ে উঠবেন ‘ও পাহাড়িয়া মন, ও বাগানিয়া মন...।’


কথা হয় জেলা শহর থেকে ঘুরতে আসা শান্ত হাসানের সঙ্গে। তিনি জানান, বন্ধুদের সঙ্গে এসেছি এখানে। এখানকার দৃশ্য দেখে মনে হয় চায়ের দেশে এটি একটি ছোট্ট সাজেক। হঠাৎ কুয়াশা পড়ার কারনে এখানকার সুন্দর্য বেড়ে উঠেছে বলে মনে করছি। 

আরেক পর্যটক সোহাক হোসেন বলেন, ‘তার বাড়ি ঢাকায়, পড়াশোনা করেন মৌলভীবাজারে। যান্ত্রিক শহরে এমন মনোরম জায়গা পাওয়াই যায় না। ছোট-বড় সবুজ পাহাড় দেখতে বেশ ভালোই লাগে। এখানে দিন পার হয়ে গেলেও বিরক্ত লাগবে না। 

চিকিৎসক সঞ্জয় গোয়ালা বলেন, কর্মব্যস্ততার মধ্যে থেকে হঠাৎ এমন পরিবেশে আসলে সব ক্লান্ত চলে যায়। 


ঘুরতে আসা হেলদি চয়েস ফুড ইন্ডাস্ট্রির কিউসি অফিসার বিপ্লব বৈদ্য বলেন, ‘আমিও সময় পেলে প্রকৃতিকে ছুঁতে যাই। যদিও এটা কোনো পর্যটনকেন্দ্র না, তবুও জায়গাটা চোখে লাগার মতো। পুরো সপ্তাহ অফিসে কাজ করে এমন প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে আসলে সুস্থ-সুন্দর দেহ-মন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সেখানকার কর্তব্যরত কয়েকজন গার্ডদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নতুন করে খনন করা ২টি ছোট লেক চারা গাছে পানি দেওয়ার জন্যে খনন করা হয়েছে। এই জায়গা সবার জন্যে উন্মুক্ত না।

পরিবেশপ্রেমী ও সাংবাদিক কামরান আহমদ বলেন, ‘কালের বিবর্তনে আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর স্থানগুলো। পাহাড়, টিলা, বন কেটে উজাড় করা হচ্ছে। এসব জায়গাকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের তৎপর হতে হবে। নিয়মিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করতে হবে।

ডিডি



শীর্ষ সংবাদ:

দক্ষিণ সুরমায় ট্রাক-পিকআপ সংঘ*র্ষে নি*হত ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত
সিলেটে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সক্রিয় ছি*নতাইকারী চ*ক্রের ১০ সদস্য গ্রে*ফতার
দক্ষিণ সুরমায় ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সং-ঘর্ষ, নি-হত ৮
আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কে সংস্কার শেষ না হতেই ফা-টল
গোয়াইনঘাটে ঝুলে আছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন লালটিকির ব্রিজ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
টানা বৃষ্টিতে সিলেট বিভাগ জুড়ে বন্যার পদধ্বনি
মেয়র থাকতেই প্রকল্প দিয়েছিলাম, বাস্তবায়ন করেনি আওয়ামী লীগ
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপি কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী