ছবি:সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের ১৯ নম্বর দিলদারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশুশিক্ষার্থীর সমাপনী পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষক একে অপরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া তিন বিষয়ে ১৪৯ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। অপর শিক্ষার্থী ফাহিয়া ইসলাম মানহা তিন বিষয়ে ১৪৭ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। উল্লেখ্য, প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিমের মেয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী ফাহিয়া ইসলাম মানহার পিতা সিরাজুল ইসলাম স্বপন মেয়ের প্রাপ্ত নম্বরপত্র দেখতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন করলে। আবেদন পাওয়ার পর প্রধান শিক্ষক নম্বর সংবলিত রেজিস্টার খাতা পর্যালোচনা করে দেখতে পান, ফাহিয়া ইসলাম মানহার প্রাপ্ত নম্বরে কাটাছেঁড়া ও ওভাররাইট রয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে ৫০ নম্বর কেটে ৪৭ লেখা হয়েছে এবং মোট নম্বর ১৫০-এর স্থলে ১৪৭ দেখানো হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান শিক্ষক ইংরেজি বিষয়ের উত্তরপত্র দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষকদের বলেন। তবে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পাওয়া গেলেও ফাহিয়া ইসলাম মানহার ইংরেজি বিষয়ের উত্তরপত্রটি পাওয়া যায়নি। এতে অনিয়মের বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে।
প্রথম শ্রেণির ইংরেজি বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী সহকারী শিক্ষক সাফিয়া বেগম জানান, ফাহিয়া ইসলাম মানহা ইংরেজি বিষয়ে পূর্ণ ৫০ নম্বর পেয়েছে। তিনি সকল শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র বিদ্যালয়ে জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, উত্তরপত্র দেখেই রেজিস্টারে নম্বর তুলেছেন সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিম ও নাজিয়া বেগম।
শিক্ষার্থী ফাহিয়া ইসলাম মানহার পিতা সিরাজুল ইসলাম স্বপন অভিযোগ করে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে প্রথম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে নামিয়ে আনার জন্য ইংরেজি উত্তরপত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রেজিস্টারে ৫০-এর জায়গায় ৪৭ লিখে নয়-ছয় করা হয়েছে।’ তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন বলেও জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মইনুল ইসলাম, জাবেদ, ওয়াসিম ও ঝন্টুসহ অনেকে অভিযোগ করেন, এখানে শুধু এটুকু নয়-ছয় নয়, আরও গুরুতর অনিয়ম ঘটছে। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ও শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে হলে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষকদের বদলি করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিফতাউল ইসলাম বলেন, ‘ক্লাস শিক্ষক সাফিয়া বেগম উত্তরপত্র জমা দিয়েছেন। রেজিস্টারে নম্বর তুলেছেন সহকারী শিক্ষক আব্দুল হাকিম ও নাজিয়া বেগম। রেজিস্টারে ওভাররাইট এবং অভিভাবকের আবেদনের পর উত্তরপত্র খুঁজতে গিয়ে সেটি আর পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে উত্তরপত্রটি গায়েব হয়ে যায়-যা আমার চাকরি জীবনে এই প্রথম।’ তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। একটি উত্তরপত্র নিখোঁজ হওয়া সত্যিই রহস্যজনক। দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




