মধ্যপ্রাচ্যে যু*দ্ধের বিস্তার: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘা*তে নতুন মাত্রা, বাড়ছে প্রা*ণহানি ও অ*নিশ্চয়তা
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ PM

মধ্যপ্রাচ্যে যু*দ্ধের বিস্তার: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘা*তে নতুন মাত্রা, বাড়ছে প্রা*ণহানি ও অ*নিশ্চয়তা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/০৩/২০২৬ ০৪:০৬:২৫ AM

মধ্যপ্রাচ্যে যু*দ্ধের বিস্তার: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘা*তে নতুন মাত্রা, বাড়ছে প্রা*ণহানি ও অ*নিশ্চয়তা

ছবি:সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পঞ্চম দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান ও লেবাননে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে। পাল্টা জবাবে ইরানও অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদেশ ও সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ হামলা

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত দেড় শতাধিক শহরে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে, নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক; তাঁদের মধ্যে বহু শিশু রয়েছে।

মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দিনভর তেহরানে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শহর। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাই জানিয়েছেন, তারা আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাসহ একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি। একই সময়ে দুবাইয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে, যদিও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া কুয়েত, ইরাক ও সৌদি আরবেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েতে একটি মার্কিন অস্থায়ী অপারেশন সেন্টারে হামলায় কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও স্থল অভিযানের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এতে অংশ নিয়েছে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, দুটি বিমানবাহী রণতরি ও কৌশলগত বোমারু বিমান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় দুই হাজার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই ইরানের আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। তবে মার্কিন সিনেটে এ যুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল সতর্ক করে বলেছেন, স্থল অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক ক্রিস্টোফার প্রেবল মন্তব্য করেছেন, ইরান ২০০৩ সালের ইরাক নয়; আয়তনে বড় এবং সামরিক চ্যালেঞ্জও বেশি। ফলে স্থল অভিযান সহজ হবে না।

লেবাননে ইসরায়েলের অগ্রযাত্রা

লেবাননেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্ত অতিক্রম করে খিয়াম শহর পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব। বৈরুত ও বালবেকসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলায় বহু ভবন ধ্বংস হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৭০ জনের বেশি নিহত ও কয়েক শ’ মানুষ আহত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার দাবি করেছে। ক্রমবর্ধমান সংঘাতে লেবাননে অন্তত ৬৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপ

ওয়াশিংটনের ভেতরেও এ যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ তীব্র হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেছেন, যুদ্ধের যৌক্তিকতা এখনো পরিষ্কার নয়।

পেন্টাগনের এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টায় জড়িত একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এ দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কার লাভ?

আন্তর্জাতিক মহলের আহ্বান সত্ত্বেও যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই। কানাডা, রাশিয়া ও চীন হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিশ্লেষক আলী আলিজাদেহ মনে করেন, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ইরান তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারে। কারণ ইরানের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যয় তুলনামূলক কম, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ ব্যয় অনেক বেশি। দীর্ঘমেয়াদে এ ব্যয় কতদিন বহন করা সম্ভব-সেই প্রশ্ন উঠছে।

সূত্র: প্রথম আলো

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: