বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ AM

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সুবিধা বজায় রাখার দাবি বাংলাদেশের

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/০৩/২০২৬ ০৭:৫৮:২৪ PM

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

ছবি:সংগৃহীত


বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা World Trade Organization (ডব্লিউটিও)-এর বিদ্যমান কাঠামোগত বৈষম্য দূর করে একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ক্যামেরুনের Yaoundé শহরে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিও-এর মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন WTO Ministerial Conference MC14-এ অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

সম্মেলনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন (২৭ ও ২৮ মার্চ) বিভিন্ন থিম্যাটিক সেশনে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে এমসি১৪-এ একটি কার্যকর প্যাকেজ গ্রহণেরও জোর দাবি জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ডব্লিউটিও-তে একটি কার্যকর ও দুই-স্তরবিশিষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে অ্যাপিলেট বডির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ বিচারিক কাঠামো অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে দেন, ঐকমত্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ পদ্ধতি থেকে সরে এলে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

মৎস্য খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষতিকর ভর্তুকিতে বাংলাদেশের অবদান প্রায় নেই বললেই চলে, অথচ বড় মৎস্য আহরণকারী দেশগুলোর কারণে সামুদ্রিক সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। এ কারণে বড় দেশগুলোর ভর্তুকিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জেলেদের জন্য সম্পূর্ণ অব্যাহতি দাবি করেন তিনি।

কৃষি খাতে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনের স্বার্থে পাবলিক স্টকহোল্ডিং ব্যবস্থার স্বীকৃতি এবং উন্নত দেশগুলোর বাণিজ্য বিকৃতকারী ভর্তুকি বন্ধের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।

সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশ ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’-এ ১২৯তম সদস্য হিসেবে যোগদানের ঘোষণা দেয়। ডব্লিউটিও কাঠামোর অধীনে এটিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে অংশগ্রহণ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ চুক্তি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

TRIPS Agreement-এর আওতায় জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার রক্ষায় ‘নন-ভায়োলেশন ও সিচুয়েশনাল কমপ্লেইন্টস’-এর ওপর স্থগিতাদেশ পরবর্তী সম্মেলন পর্যন্ত বহাল রাখার পক্ষে মত দেয় বাংলাদেশ। মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিভাজন ও একতরফা পদক্ষেপের কারণে এলডিসিভুক্ত দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ডব্লিউটিও সংস্কার প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্য-যাতে একটি সমতাভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: