সংগৃহিত
একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে কঠোর হুমকি দিচ্ছিলেন, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে তাঁর প্রশাসনই যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় ছিল-এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াশিংটন পাকিস্তানের ওপর চাপ তৈরি করে, যাতে তারা ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। মুসলিম ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র হওয়ায় পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব দিলে তেহরান তা গ্রহণ করবে—এমনটাই যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব ছিল।
এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাঁর মধ্যস্থতায় অবশেষে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প আবারও কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন।
মূল কারণ ছিল জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়া এবং ইরানের অপ্রত্যাশিত প্রতিরোধ। সূত্র বলছে, মার্চের শেষ দিক থেকেই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছিলেন।
শেষ মুহূর্তে আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। পরে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব চূড়ান্ত করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও, তাঁর পোস্টে ‘খসড়া’ শব্দ থেকে যাওয়ায় বোঝা যায়—বিবৃতিটি আগেই হোয়াইট হাউস প্রস্তুত করেছিল।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফা প্রস্তাব দেয়, যার বিপরীতে ইরান ৫ ও ১০ দফার পাল্টা প্রস্তাব তোলে। দীর্ঘ দরকষাকষির পর ইরান আংশিকভাবে ইউরেনিয়াম মজুত কমাতে সম্মত হয় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত রাজি হয়।
তবে বড় বাধা ছিল ইরানের শক্তিশালী বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps। তাদের ভেতরেই মতভেদ ছিল, এবং কিছু অংশ যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতে হামলার চেষ্টাও করে।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে ইসরায়েলের লেবাননে চলমান হামলা, যা এই যুদ্ধবিরতির আওতায় নেই। ফলে শান্তিপ্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখালেও বাস্তবে সংঘাত থামাতে ট্রাম্প প্রশাসনই সবচেয়ে বেশি তৎপর ছিল—এটাই এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




