গোলাপগঞ্জে পুলিশের ক*ড়াকড়ি অভিযান
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৯:৫৫ PM

মামলা দুই গাড়ির বিরুদ্ধে আটক অনটেস্ট সিএনজি

গোলাপগঞ্জে পুলিশের ক*ড়াকড়ি অভিযান

মো. বদরুল আলম, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৫/২০২৬ ০৮:০৯:০২ PM

গোলাপগঞ্জে পুলিশের ক*ড়াকড়ি অভিযান

সংগৃহিত


সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য কমানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সিলেটের গোলাপগঞ্জে থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত এই অভিযানের অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাপক তল্লাশি ও যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।

অভিযান চলাকালে বিভিন্ন যানবাহনের ফিটনেস, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে পুলিশ। এসময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে অসঙ্গতি ও অনিয়ম পাওয়ায় দুইটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি অনটেস্ট একটি সিএনজি অটোরিকশা আটক করে পুলিশ।

স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের অনিয়ম বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহ আলম। এসময় থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট সুকান্ত হিরা ও অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযান চলাকালে সড়কে যানবাহন থামিয়ে একে একে কাগজপত্র যাচাই করা হয় এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

ট্রাফিক সার্জেন্ট সুকান্ত হিরা বলেন, “চলমান বিশেষ অভিযানে যানবাহনের ফিটনেস, লাইসেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, অনেক চালক এখনও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে উদাসীন। সচেতনতার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগও জরুরি। তাই জনস্বার্থে পুলিশের এই কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শাহ আলম বলেন, “সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির নির্দেশনায় থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়কে সকল ধরনের অনিয়ম রোধে পুলিশের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অবৈধ যানবাহন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্স ছাড়া চলাচলকারী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানের সময় অনেক যানবাহন চালককে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে সচেতন করা হয়। হেলমেট ব্যবহার, সিটবেল্ট বাঁধা, বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং অতিরিক্ত গতি পরিহারের বিষয়ে চালকদের পরামর্শ দেন পুলিশ সদস্যরা।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে। জনস্বার্থে পুলিশের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। 



জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ