বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় যু'ক্তরাষ্ট্র
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৭ PM

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় যু'ক্তরাষ্ট্র

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/০৬/২০২৬ ০২:৪২:১৬ PM

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের বি'রুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চায় যু'ক্তরাষ্ট্র


জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) এক তদন্তের পর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার (২ জুন) এ সংক্রান্ত একটি বিৃবতি জারি করেছে ইউএসটিআর।

ইউএসটিআর তাদের তদন্ত রিপোর্টে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। যেসব দেশ আংশিক নিয়ম কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (যেমন ইউএসএসসিএ) মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান।

যেসব দেশ সম্পূর্ণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই গ্রুপে রয়েছে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ ৫৪টি দেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’-এর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত (কম) শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি স্বস্তির কারণ হতে পারে কি না, তা পরবর্তী শুনানিতে স্পষ্ট হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘আমাদের প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে একটি অসমান প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা এই বৈষম্য আর সহ্য করব না।’

ইউএসটিআর-এর তদন্তে বলা হয়েছে, এই ৬০টি দেশের ব্যর্থতার কারণে তৈরি হওয়া সস্তা পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে। এটি মার্কিন উৎপাদকদের জন্য অসদুপায় ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে এবং বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এই শুল্ক এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়নি। এটি আপাতত একটি প্রস্তাব, যার ওপর অংশীজনদের মতামত ও শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুন গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন এবং বক্তব্যের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর পর৬ জুলাই প্রস্তাবিত শুল্কের বিষয়ে লিখিত মতামত বা আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ সময়। শেষে ৭ জুলাই ইউএসটিআর এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গণশুনানি করবে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সমস্ত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২.৫% শুল্ক যোগ হবে। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের দাম বেড়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে। তবে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার বা ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো (যেমন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ) যুক্তরাষ্ট্রের এই শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার এবং তৈরি পোশাকের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ ছাড় আদায়ের সুযোগ পাবে।

জৈন্তাবার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ:

অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে ব*ঞ্চিত হবে না : মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর- এমপি মিলন
মায়ের প্রতি অবহেলার অভিযোগে যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে প্রত্যাহার
জুড়ীতে ব*জ্রপাতে ১৩ গরু ও এক মহিষের মৃ*ত্যু, বিপা*কে চা শ্রমিক পরিবার
সিলেটে হাসপাতাল নির্মাণে বিনিয়োগ করবে চীন: আরিফ
সোহাগা মিশ্রিত চো'লাই ম'দে বাড়ছে মৃ'ত্যু ও অ'সুস্থতা
তাপপ্রবাহের মাঝেই সিলেটে বৃষ্টির আভাস
দক্ষিণ সুরমায় শিশুকে যৌ*ন নি*র্যাতনের অভি*যোগে গ্রে*প্তার ১
মাধবপুরে সালিশে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘ*র্ষ, আহ*ত ৪০
এক হাজার শয্যার হাসপাতাল স্থান নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সিলেটে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী