সংগৃহিত
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো, অশালীন প্রস্তাব দেওয়া, ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর চাচা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, তার ১৪ বছর বয়সী ভাতিজি আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. সোহেলের কাছে সে নিয়মিত প্রাইভেট পড়ত।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীটির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। তিনি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অশালীন প্রস্তাব দিতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ওই শিক্ষক ছাত্রীটির কাছে শাড়ি পরা ছবি পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এসব ঘটনার কারণে ছাত্রীটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যালয় ও প্রাইভেটে যেতে আতঙ্কবোধ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. সোহেল বলেন, ‘আমি আসলে ভুল করে ফেলেছি। ওই মেসেজ দেওয়া আমার ঠিক হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এত দূর গড়াবে, তা আমি বুঝতে পারিনি। জানলে এমন বার্তা দিতাম না। যেহেতু ঘটনাটি এতদূর গিয়েছে, তাই আমি আর চাকরি করব না। দুই-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগপত্র জমা দেব।’
নিজের প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সকল শিক্ষার্থীর কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি তোমাদের সামনে দাঁড়ানোর নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছি। তোমরা ভালো একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়া শুরু করে দিও। আমি চাকরি থেকে পদত্যাগ করছি। তোমরা ভালো থেকো, ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করো। আমার কোনো আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে বলে শুনেছি। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানায় অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




