ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপার বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় দুই বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিহত এক যাত্রীর বড় ভাই মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) চালক এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) চালককে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
এদিকে দুর্ঘটনার পর শনিবার দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় বিআরটিএ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুই বাসের মালিক ও চালককে পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একই দিন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সিলেট জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা, পঙ্গুত্ববরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসাধীন আহতদের ১ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শনিবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
দুর্ঘটনায় নিহত ৯, আহত ২৪
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাশিকাপন এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকা-সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর থেকে বাস দুটির চালকের দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত গতি কিংবা অন্য কোনো কারণে সংঘর্ষটি ঘটেছে কি না-তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও মামলার তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




