বিশ্বজুড়ে সিলেটের মেধার জয়, শিক্ষায় কেন পিছিয়ে সিলেট?
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ AM

জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের সেমিনারে শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা

বিশ্বজুড়ে সিলেটের মেধার জয়, শিক্ষায় কেন পিছিয়ে সিলেট?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ১২:১৮:৪২ AM

বিশ্বজুড়ে সিলেটের মেধার জয়, শিক্ষায় কেন পিছিয়ে সিলেট?

ছবি:সংগৃহীত


সিলেটের মানুষের মেধা ও সক্ষমতার ঘাটতি নেই; বরং শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগকে কাঠামোবদ্ধভাবে কাজে লাগাতে না পারার কারণেই অঞ্চলটি বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে রয়েছে-জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের সেমিনারে উঠে এসেছে এমন আলোচনা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুণগত শিক্ষার প্রসার’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা সিলেটের শিক্ষা পরিস্থিতি, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের মানুষের মেধা ও সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই। প্রয়োজন সঠিক নেতৃত্ব, শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।

তিনি বলেন, বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার ও শিক্ষার বিভিন্ন সূচকে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। শহর ও গ্রামীণ-উভয় এলাকার শিক্ষা পরিস্থিতিতেই জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা যায়। বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার, প্রাথমিক শিক্ষার মান এবং শিক্ষার্থীদের রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতার ক্ষেত্রেও এই ব্যবধান রয়েছে।

তবে সিলেটের মানুষের মেধার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ ইংল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। শিক্ষা, রাজনীতি ও বিভিন্ন পেশায় তারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। তাই সিলেটের পিছিয়ে থাকার কারণ মেধার ঘাটতি নয়; এর সঙ্গে অবকাঠামোগত সমস্যা, নেতৃত্বের দুর্বলতা ও অন্যান্য কাঠামোগত বিষয় জড়িত।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়েই শিক্ষার্থীদের রিডিং, নিউমেরেসি ও মৌলিক দক্ষতার ভিত্তি শক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থী অনুযায়ী শিক্ষক, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।

আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত খাবার না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য মিডডে মিলের প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রিডিং ও নিউমেরেসি দক্ষতা বাড়াতে সরকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগসূত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিলেটে কারিগরি শিক্ষার ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদেশের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে সিলেটে একটি এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তুলতে পারলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সিলেটে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলের অনেকে ফ্রিল্যান্সিং করে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন। ফলে সম্ভাবনা রয়েছে; প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত করা।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামাজিক সমস্যার সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে কিছু পরিবার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়। শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এ ধরনের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

প্রশাসনের সিলেটি কর্মকর্তাদের ভূমিকার আহ্বান

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, অবকাঠামো ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিলেট পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রশাসনে কর্মরত সিলেটি কর্মকর্তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সেটির বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহত্তর সিলেটের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও কার্যকর সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব।

সিলেটের শিক্ষার অতীত সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একসময় সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সিলেটের মানুষের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২ জনের মধ্যে ছয়জনই সিলেটের ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরবর্তী সময়েও সিলেটের অনেকে সিভিল সার্ভিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। তবে বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

সেমিনারে বক্তাদের আলোচনায় মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়-শিক্ষার ভিত্তি শক্ত করা, তরুণদের দক্ষ করে তোলা এবং সেই দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সিলেটের প্রবাসী সমাজের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

জালালাবাদ অফিসার্স এসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সিলেটের শিক্ষা, প্রশাসন ও বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ
বিশ্বজুড়ে সিলেটের মেধার জয়, শিক্ষায় কেন পিছিয়ে সিলেট?
তরুণদের মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে
দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা শক্ত হাতে দমন করা হবে: মুক্তাদির
অসময়ে মেলা আয়োজন করলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে’- মন্ত্রী আরিফুল হক
তিতাস খানকে গ্রে/প্তারের প্রতিবাদে শাহী ঈদগাহে পরিবহন শ্রমিকদের মা/নব/বন্ধন
তাহিরপুরে ১৫ কেজি গাঁ/জাসহ যুবক-যুবতী আ/টক
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন সড়ক কবে চালু হবে জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
জৈন্তাপুরে জঙ্গলে মিলল অ'স্ত্র ও লু'ট হওয়া গু'লি
বিমানবন্দর থেকে বের হয়েই নি'খোঁজ জগন্নাথপুরের সুজন