ছবি:সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ এক বছরেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। মসজিদ নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণে প্রকল্পটি আটকে আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পশ্চিম পাশে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কসংলগ্ন একটি স্থান পরিদর্শন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে ওই স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তবে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পরবর্তী সময়ে সেখানে নির্মাণের উদ্যোগ আর এগোয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমির পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি কেনার বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট জমির মালিক জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় সেই উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
গত বছরের ২৭ অক্টোবর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ‘মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শহিদুল আলম, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মুঃ আঃ আউয়াল হাওলাদার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আঃ ছালাম এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মো. সাজ্জাদুল হাসানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের পর প্রধান ফটকের পশ্চিম পাশে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কসংলগ্ন স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হলেও পর্যাপ্ত জমি না থাকায় বিকল্প স্থান খোঁজার প্রয়োজন দেখা দেয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশের জমি এবং সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর মালিকানাধীন জমি মিলিয়ে মডেল মসজিদ নির্মাণের একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। সূত্রটির দাবি, বিজিবির জমি সরাসরি বিক্রির সুযোগ না থাকায় জমি বিনিময়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের বিষয়ে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বিজিবি কর্তৃপক্ষের মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে আর এগোয়নি।
বর্তমানে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে জায়গা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বিজিবির সঙ্গে জমি বিনিময়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাদের প্রধান ফটকের কাছে যেহেতু উপযুক্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না এবং কেন্দ্রীয় মসজিদটি ছোট হওয়ায় শুক্রবারে মুসল্লিদের জায়গা সংকট হয়, তাই কেন্দ্রীয় মসজিদের জায়গায় প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে উপযুক্ত জায়গায় নির্মাণের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়কে জানানো হয়েছে। তবে এখনো এ প্রস্তাবের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।’
প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণের বর্তমান অগ্রগতি ও জমি-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে জানতে কেন্দ্রীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কামরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
মডেল মসজিদ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের সহজে যাতায়াত এবং লোকসমাগম হয়-এমন স্থানে নির্মাণের উদ্দেশ্য রয়েছে।
শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় মসজিদটি ক্যাম্পাসের প্রায় ৭০০ মিটার ভেতরে অবস্থিত। সেখানে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে বাইরের সাধারণ মানুষের অবাধ প্রবেশ সব সময় সম্ভব হয় না। ফলে ক্যাম্পাসের ভেতরে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় মসজিদের স্থানে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ জায়গায় মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হলে এটি কার্যত একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত স্থাপনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে মডেল মসজিদের মূল উদ্দেশ্য-সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার ও বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততা-কতটা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই এখন প্রকল্পটির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




