সংগৃহীত
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে বলে দাবি করে জাতীয় সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন দেশে খুন, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন, মব সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংসদ অধিবেশনে দেশের জলদস্যু ও অপরাধীদের দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের উত্থাপিত প্রশ্নের লিখিত ও মৌখিক জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
জলদস্যু ও অপরাধীদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দক্ষিণাঞ্চলের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের অনুরোধে সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ বহু জলদস্যু ও বনদস্যুকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার একপর্যায়ে অস্ত্র সমর্পণ ও ক্ষমা প্রদর্শনের সুযোগ দিয়ে দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল এবং তাতে ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। তবে আত্মসমর্পণকারী কিছু অপরাধী কয়েক বছর পর আবারও দস্যুতার পথে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই কারণে সরকার অপরাধীদের পুনরায় অপরাধে জড়ানো রোধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ জারি রেখেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে দেশের প্রধান প্রধান অপরাধের সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে যেখানে সারাদেশে দুই হাজার ৬০৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৩২টিতে। অর্থাৎ এই সময়ে খুনের সংখ্যা ৩০০-এরও বেশি কমেছে।
একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বিগত বছরের ১১ হাজার ২৬৯টি থেকে কমে ৯ হাজার ৩৪৭টিতে এবং ধর্ষণের ঘটনা চার হাজার ৬৬৬টি থেকে কমে চার হাজার ৪০২টিতে নেমে এসেছে বলে তিনি সংসদে জানান।
মব সহিংসতার ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে মব সহিংসতা বা মব জাস্টিসের প্রবণতা ছিল ৮৯টি, যা বর্তমান সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কমে ৫৬টিতে নেমে এসেছে। এই ঘটনাগুলোকে শূন্যে নামিয়ে আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বা সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছরের একই সময়ে সংখ্যালঘু সংক্রান্ত ঘটনার সংখ্যা ছিল ৯৯৯টি, যা চলতি বছরে কমে দাঁড়ায় ১৬৩টিতে। সংসদ সদস্যদের যে কোনো নির্দিষ্ট নোটিশ ও অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে আরও বিস্তারিত নথিপত্র সংসদে পেশ করার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা




