সংগৃহীত
ভারতের মুম্বাইয়ের নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতের ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পর এ নিয়ে মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান। ওই ঘটনা নিরাপত্তা, প্রাপ্তি-সুবিধা ও জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলে দিয়েছে, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ‘গালফ নিউজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব অভিজ্ঞতার কথা জানান সাইফ আলী খান।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। ‘গালফ নিউজ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাইফ বলেন, ‘ওই ঘটনা নিরাপত্তার বিষয়ে তার আগের স্বস্তিদায়ক মনোভাবকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি স্বীকার করেন, তার চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা কখনোই তার খুব একটা পছন্দ ছিল না। তবে ওই হামলা তাকে সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্ব বুঝিয়েছে।’তিনি বলেন, ‘আমি নিরাপত্তার খুব একটা ভক্ত ছিলাম না এবং বিষয়টি খোলামেলাই রাখতে পছন্দ করতাম। কিন্তু এ ঘটনা থেকে আমার উপলব্ধি হলো, পৃথিবীতে অনেক সুবিধাভোগী মানুষ যেমন আছে, তেমনি অনেক বঞ্চিত মানুষও আছে। তাই ভাগ্যকে চ্যালেঞ্জ করা উচিত নয়। দরজা বন্ধ করে রাখতে হবে, মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদে রাখতে হবে এবং বুঝতে হবে আপনি কতটা ভাগ্যবান আর বেশির ভাগ মানুষ কতটা দুর্ভাগা।’
এই ঘটনা অপরাধের পেছনের বৃহত্তর পরিস্থিতি নিয়েও সাইফকে ভাবিয়েছে। হামলাটিকে শুধু তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা হিসেবে না দেখে, অভিনেতা বলেন, এটি তাকে বেশি সুবিধাভোগী ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যকার ব্যবধান নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে।তিনি বলেন, ‘এটাই আসল বিষয়—আপনি বুঝতে পারেন কেন এই ঘটনা ঘটেছে, আর এর কারণ হলো বৈষম্য।’
হামলার পর এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও সময়ের সঙ্গে অভিজ্ঞতাটি পুরোপুরি মুছে যায়নি বলে জানান সাইফ। তিনি বলেন, ‘সময় যত যাচ্ছে, কিছু বিষয় আরও খারাপ মনে হচ্ছে। এটি আপনাকে সত্যিই ছেড়ে যায় না—ঘটনাটি কতটা ভাগ্যের বিষয় ছিল, কতটা কাছাকাছি চলে এসেছিল, পুরো ঘটনাটি কতটা সহিংস ছিল এবং কত দ্রুত সবকিছু ঘটে গিয়েছিল।’সাইফ আরও বলেন, নিজের জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তিনি অদ্ভুত এক আবেগের মিশ্র অনুভূতি পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘দুটি বিষয় ছিল। একটি হলো বিষয়টি এবং সেটি আবেগের সঙ্গে মোকাবিলা করা, যা আমাকে খুব ভাগ্যবান মনে করায়। আমার মনে আছে, একপর্যায়ে মনে হয়েছিল এটাই হয়তো শেষ। কিন্তু একই সঙ্গে এটাও মনে হয়েছিল, জীবনটা অসাধারণ ছিল।’অভিনেতার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিনের প্রবল স্রোতও তার মধ্যে অপ্রত্যাশিত এক ধরনের মেনে নেওয়ার অনুভূতি তৈরি করেছিল।
তিনি বলেন, ‘অ্যাড্রেনালিনের একটা বিষয় আছে, আর একজন যোদ্ধার মৃত্যুর মধ্যেও কিছু একটা আছে। যখন সত্যিই এমন কিছু ঘটে, তখন অ্যাড্রেনালিন কাজ করে বলে আমি মনে করি। আমি বেশ শান্ত ছিলাম এবং মনে আছে, আমার মনে হয়েছিল—জীবনটা সত্যিই অসাধারণ ছিল।’২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ভোররাতে চুরির চেষ্টার সময় এক অনুপ্রবেশকারী সাইফের বাড়িতে ঢুকে পড়লে তাকে হামলা করা হয়। ওই সময় অভিনেতাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তার মেরুদণ্ড, ঘাড় ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে দ্রুত লীলাবতী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় এবং কয়েক দিন পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




