নি/রাপত্তা-সহায়তা চান বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশু মা-মেয়ে
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৭ PM

ভিটেমাটি দ/খলের অ/ভিযোগ

নি/রাপত্তা-সহায়তা চান বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশু মা-মেয়ে

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ০৪:২৩:৪৩ PM

নি/রাপত্তা-সহায়তা চান বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশু মা-মেয়ে

ছবি:সংগৃহীত


হবিগঞ্জের মাধবপুরে গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা বেগম ও তাঁর যুদ্ধশিশু কন্যা শামসুন্নাহারের ভিটেমাটি ও বাড়িঘর দখলের চেষ্টা, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁদের বঞ্চিত করারও অভিযোগ করেছেন মা-মেয়ে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তা চেয়েছেন তাঁরা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম। অভিযোগে তিনি বলেন, উপজেলার আদাঐর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি ও তাঁর মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সামাজিক হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। একটি চক্র বিভিন্ন সময়ে তাঁদের হয়রানি করার পাশাপাশি ভিটেমাটি ও বাড়িঘর দখলের চেষ্টা করছে।

মাজেদা বেগমের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তাঁকে একটি বীর নিবাস নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর আত্মীয় আমির হোসেন ও জামাল মিয়া একটি চক্রের সহযোগিতায় তাঁদের ভিটেমাটি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় আমিন নজরুল ইসলাম তাঁদের না জানিয়ে বাড়িঘর মাপতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন মাজেদা বেগম। এ সময় বাড়িঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এর আগে নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগে মাধবপুর থানায় আরও দুইবার অভিযোগ করেছিলেন বলেও জানান মা-মেয়ে।

তবে আমির হোসেন ও জামাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলেন, ‘এগুলো আমাদের মালিকানাধীন জায়গা। নির্যাতনের অভিযোগ অতিরঞ্জিত।’

এদিকে যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে গলার জটিল রোগে ভুগছেন বলে জানা গেছে। তাঁর চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে গত মার্চে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে একাধিকবার সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসূচিতেও তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয় না বলে অভিযোগ করেন মা-মেয়ে।

বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়েকে নিয়ে একটি স্বাধীন দেশে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো কর্মসূচিতে আমাদের ডাকা হয় না। বিভিন্ন সময় টিটকারি-মশকরা করা হয়। আমাদের বীর নিবাস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। এখন ন্যায়বিচারের জন্য থানায় ঘুরছি।’

যুদ্ধশিশু শামসুন্নাহার বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি আমাদের প্রতি সুবিচার না করে, তাহলে মনে এই কষ্ট নিয়ে একদিন সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে যাব। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুবিচার চাই।’

মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী ওরফে দুলা মিয়া বলেন, ‘বীরাঙ্গনা মাজেদা বেগম ও তাঁর কন্যা আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। তাঁদের ওপর এত নির্যাতনের বিষয়টি আমি জানতাম না। আগামী মিটিংয়ে বিষয়টি আমি তুলে ধরব।’

মাধবপুরের ইউএনও মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি। পরিবারটিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা আমি গ্রহণ করব।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতনের অভিযোগ

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাজাকাররা মাজেদা বেগমকে অপহরণ করে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায় বলে জানা যায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতনের শিকার অবস্থায় তাঁর গর্ভে জন্ম নেন শামসুন্নাহার। স্বাধীনতার পরও মাজেদা বেগম সামাজিকভাবে নানা বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পান তিনি। শামসুন্নাহার যুদ্ধশিশু হিসেবে পরিচিত।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ