ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বাউল গানের আসর বন্ধের আবেদন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এবার জগন্নাথপুরে বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থলে গান-বাজনা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছে কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন নামের একটি সংগঠন।
সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের সংগঠনটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর বাজারসংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় মরমি সাধক রাধারমণ দত্তের স্মরণে গানের আসরসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, এসব আয়োজনের কারণে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বার্থ ও কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষার কথা উল্লেখ করে তাঁরা সেখানে গান-বাজনাসহ সংশ্লিষ্ট আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। আবেদনে কাদির মিয়া, রফিক মিয়া, মো. তৈমুর আলীসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামেই ধামাইল সংগীত ও ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল অবস্থিত। তাঁর রচিত গান বাংলা লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় তাঁর স্মরণে সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিবছর স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে সেখানে ‘রাধারমণ উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লোকসংস্কৃতি আমাদের শিকড়। সংস্কৃতির বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের সৌন্দর্য। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেশের সংস্কৃতিচর্চাকে সংকুচিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, দুর্বীন শাহ ও শাহ আবদুল করিমসহ অসংখ্য গুণী সাধক সুনামগঞ্জের রত্ন। তাঁরা সুনামগঞ্জের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। রাধারমণের জন্মভিটায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আশা করি, প্রশাসন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জগন্নাথপুরের ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। গত বছর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাধারমণ দত্তকে স্মরণ করে অনুষ্ঠান হয়েছিল। আগামী ১ তারিখে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা আছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ বছরও রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’
এর আগে গত ২২ অক্টোবর দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগ তুলে বাউল গানের আসর বন্ধের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়। আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ওই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলী মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিলেন। হাতিয়া গ্রামের পাশের তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামেই প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়ি।
এ ছাড়া ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র বাধার মুখে দিরাই উপজেলা সদরের স্টেডিয়ামে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করা হয়। গত ৫ অক্টোবর স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের সংগঠনটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
আবেদন সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর বাজারসংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় মরমি সাধক রাধারমণ দত্তের স্মরণে গানের আসরসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, এসব আয়োজনের কারণে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জনস্বার্থ ও কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষার কথা উল্লেখ করে তাঁরা সেখানে গান-বাজনাসহ সংশ্লিষ্ট আয়োজন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। আবেদনে কাদির মিয়া, রফিক মিয়া, মো. তৈমুর আলীসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামেই ধামাইল সংগীত ও ধামাইল নৃত্যের প্রবর্তক বৈষ্ণব কবি রাধারমণ দত্তের সমাধিস্থল অবস্থিত। তাঁর রচিত গান বাংলা লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় তাঁর স্মরণে সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিবছর স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে সেখানে ‘রাধারমণ উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ও সুনামগঞ্জের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘লোকসংস্কৃতি আমাদের শিকড়। সংস্কৃতির বৈচিত্র্যই বাংলাদেশের সৌন্দর্য। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেশের সংস্কৃতিচর্চাকে সংকুচিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, দুর্বীন শাহ ও শাহ আবদুল করিমসহ অসংখ্য গুণী সাধক সুনামগঞ্জের রত্ন। তাঁরা সুনামগঞ্জের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন। রাধারমণের জন্মভিটায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আশা করি, প্রশাসন অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জগন্নাথপুরের ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমি শুনেছি। গত বছর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাধারমণ দত্তকে স্মরণ করে অনুষ্ঠান হয়েছিল। আগামী ১ তারিখে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা আছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ বছরও রাধারমণ দত্তের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’
এর আগে গত ২২ অক্টোবর দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে ‘অশ্লীলতার’ অভিযোগ তুলে বাউল গানের আসর বন্ধের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়। আপত্তি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ওই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শওকত আলী মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিলেন। হাতিয়া গ্রামের পাশের তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামেই প্রয়াত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়ি।
এ ছাড়া ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র বাধার মুখে দিরাই উপজেলা সদরের স্টেডিয়ামে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বাতিল করা হয়। গত ৫ অক্টোবর স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




