চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধামে লক্ষ ভক্তর আগমনে মুখরিত শিবচতুর্দশী মেলা। প্রতি বছরের মতো এবারও সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ ধামে দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশ থেকে লক্ষো হিন্দু পুণ্যার্থী সমবেত হয়েছেন। ৮ মার্চ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী এই মেলা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাতীর্থ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় ও মন্দিরের উৎপত্তি কথা বাংলাদেশের বন্দরনগরী চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড থানায় রয়েছে সনাতনী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রনাথ পাহাড়। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের চতুর্দশী তিথিতে এখানে তিন দিনব্যাপী বসে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলা। তবে মেলা তিন দিন হলেও এর স্থিতিকাল থাকে প্রায় মাস ব্যাপী। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে পূর্বদিকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে উচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ মন্দির। এটি একটি জাগ্রত শিব মন্দির। সমতল ভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় তেরোশো মিটার ।চন্দ্রনাথ পাহাড় হিমালয় হতে বিচ্ছিন্ন পূর্বাঞ্চলীয় অংশ। এ পাহাড় হিমালয়ের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ঘুরে ভারতের আসাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যের মধ্য দিয়ে ফেনী নদী পার হয়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে মিশেছে। উল্লেখ্য সনাতন ধর্ম গ্রন্থ পুরান মতে সত্যযুগে দক্ষ রাজা যজ্ঞে সতীমাতা দেহ ত্যাগ করলে মহাদেব সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রলয় নৃত্য শুরু করেন। তখন শিবকে শান্ত করতে ভগবান শ্রী বিষ্ণুদেব সুদর্শন চক্র দ্বারা সতীর মৃতদেহ ছেদন করেছিলেন। এই মৃতদেহের ৫১ পীঠ ছেদন হয়েছিল। তার একটি অংশের মধ্যে সতীর বাম হস্ত পড়েছিল এই সীতাকুণ্ডে। যদিও কিছু কিছু ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায় ৮০০ বছর পূর্বে গৌরের বিখ্যাত আদিশূরের বংশধর রাজা বিশ্বম্ভর সমুদ্রপথে চন্দ্রনাথে পৌঁছার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় ত্রিপুরার শাসক রাজা ধন মানিক্য এ মন্দির থেকে শিবের মূর্তি তাঁর রাজ্যে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন।প্রচলিত আছে, নেপালের এক রাজা স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পৃথিবীর পাঁচ কোণে পাঁচটি শিবমন্দির নির্মাণ করেন। এর মধ্যে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের শিবমন্দির অন্যতম।পৌরাণিক কাহিনী বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, এখানে মহামুনি ভার্গব বসবাস করতেন। সত্যযুগে অযোদ্ধার রাজা দশরথের পুত্র শ্রী রামচন্দ্র তার বনবাসের সময় এখানে এসেছিলেন। রাম সীতার বনবাস এর কিছু চিহ্ন পাওয়া যায় সীতাকুণ্ডে। তারা আসবেন জানতে পেরে মহামুনি ভার্গব এখানে স্নানের জন্য তিনটি কুণ্ড (কুয়া) সৃষ্টি করেন। এরপর শ্রী রামচন্দ্রের স্ত্রী সীতা এই কুণ্ডে স্নান করেন। এরপর থেকেই স্থানের নামকরণ করা হয় সীতাকুণ্ড। যেটিতে রাম স্নান করেছিলেন সেটির নামকরণ করা হয় রামকুণ্ড। রয়েছে লক্ষণ কুণ্ড ও রামের ভক্ত হনুমান জির মন্দির। তবে বর্তমানে কুণ্ডগুলো শুকিয়ে গেছে। ঐতিহাসিক কাল থেকে ইটের দেয়ালে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে এই সমস্ত পৌরাণিক স্থানগুলোকে।তাহলে বোঝা যায় এর ইতিহাস ঐতিহ্য আদি সনাতন। যার কোন অন্ত নেই। এই শিব মন্দির কখন এ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা প্রকৃতপক্ষে কোন ভাবে জানা সম্ভব নয়। তবে সতীর খন্ড দেহ যেসব স্থানে পড়েছিল সে সকল স্থানে পরম বৈষ্ণব শিব সদা বিরাজমান বলে জানা যায়।পৌরাণিক স্মৃতিবিজড়িত অসংখ্য মঠ-মন্দির আছে এই পাহাড়ে। এখানে রয়েছে স্বয়ম্ভুনাথ মন্দির যা স্বয়ং (নিজেই) ভূ (মাটি) থেকে উৎপত্তি হয়েছিল। এটিকে ক্রমদিশ্বর স্বয়ম্ভুনাথ শিব মন্দিরও বলা হয়ে থাকে। মূলত এই মন্দির দর্শন করে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আরোহন করে তীর্থযাত্রীরা। এছাড়া চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পূর্ব পাশে গহীন অরণ্যে রয়েছে পাতাল কালীবাড়ি।প্রতিবছর দেশ-বিদেশের ভারত নেপাল ভুটান থেকে অনেক সাধু-সন্ন্যাসী আসেন এ মেলায়।শিবচতুর্দশী মেলা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ ধামে শিব পূজা উপলক্ষে মেলার আয়োজন করে। ভক্তরা ব্রত (ধর্মীয় আচার), বিশেষ প্রার্থনা ও পূজার মাধ্যমে দিনটি পালন করে। অনেক ভক্ত মহাশিবরাত্রিতে সারা রাত জেগে প্রার্থনা ও ব্রত পালন করেন শুক্রবার (৮ মার্চ) বিকালে শিব চতুর্দশী ও দোল পূর্ণিমা মেলার মাঙ্গলিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনের সংসদ সদস্য ও মেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব এস এম আল মামুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ সদস্য আ ম ম দিলশাদ, সীতাকুণ্ড পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলম, সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন, ৫নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর সফিউল আলম চৌধুরী মুরাদ, মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রেল স্টেশন অফিস সূত্রে জানা যায় তিনটি আন্তনগর ট্রেন—ঢাকা মেইল, বিজয় এক্সপ্রেস এবং মেঘনা এক্সপ্রেস—বিভিন্ন জেলা থেকে আসা তীর্থযাত্রীদের নামানোর জন্য বৃহস্পতিবার শুক্রবার, শনিবার সীতাকুণ্ড স্টেশনে থেমেছে। তীর্থযাত্রীদের দাবি আসা-যাওয়ার জন্য থামানোর জন্য। তীর্থযাত্রীরা পাহাড়ের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দিরে পৌঁছে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন। আয়োজকরা জানান, তীর্থযাত্রীরা ৩ হাজার ৫০০টি সিঁড়ির ধাপ বেয়ে প্রায় ১ হাজার ২৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় উঠে মূল মন্দিরে পূজা দেন।শ্রী শ্রী চন্দ্রনাথ ধামে হর হর মহাদেব ও জয় শ্রী রাম, রাধে রাধে ধ্বনির মধ্য দিয়ে লক্ষ ভক্তের সাথে পরিক্রমা করছেন। মেলা উপলক্ষে আশপাশে এলাকায় তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ। মেলা কমিটির সভাপতি সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম, রফিকুল ইসলাম বলেন, পূন্যার্থীদের সুবিধার্থে পানির সুব্যবস্থা, ভ্রাম্যমান টয়লেট স্থাপন, বিশ্রামাগার সহ মহিলাদের আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল কান্তি শর্মা বলেন মেলাও উপলক্ষে তীর্থ যাত্র
জৈন্তাবার্তা/এমকে




