ছবি সংগৃহীত
লেবাননে বিধ্বংসী বিমান হামলার পাশাপাশি অধিকৃত গাজা উপত্যকায়ও নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। আলজাজিরা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীর দুটি হামলায় মধ্য গাজায় কমপক্ষে চার শিশুসহ ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী দেইর আল-বালাহতে এক মা ও তার চার সন্তানকে হত্যা করেছে।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের শিবিরগুলো প্লাবিত হওয়ার পর এই আক্রমণ তাদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তোলে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হামাসের কমান্ড সেন্টারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছিল, যা আগে একটি স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
এ ছাড়া দেইর আল-বালাহ শহরে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক নারী এবং চার শিশু নিহত হয়। তবে এই হামলার বিষয়ে ইসরাইলি বাহিনীর কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই হামলাগুলো তখন চালানো হয়েছে যখন ভারী বৃষ্টিপাতে প্লাবিত হয়েছে গাজার বাস্তুচ্যুতদের জন্য নির্মিত শিবিরের তাঁবুগুলো। তীব্র বাতাস অনেক তাঁবু উড়িয়ে নিয়ে গেছে। অনেকে আটার বস্তা, পুরোনো কাপড় ও নাইলন ব্যাগ দিয়ে তাঁবু তৈরি করেছে। তাঁবুর চারপাশে নালা খোঁড়া হয়েছে যাতে পানি বের হয়ে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে শীত আসার আগে আরও আশ্রয় ও ত্রাণ সরবরাহ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএ। প্রায় এক বছরের যুদ্ধে গাজার ২৩ লাখ মানুষের বেশিরভাগই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে গাজায় ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান এবং হত্যাযজ্ঞ নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিডিয়ার নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি একে ‘গণহত্যা’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, যারা এ হত্যাকা- সমর্থন করে বা এর বিরুদ্ধে কিছু বলছে না, তারা নিজেদের মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলেছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেত্রো বলেন, যারা এই গণহত্যাকে সমর্থন করে বা এর বিরুদ্ধে নীরব থাকে, সে নিজের মানবিক অস্তিত্বকে ধ্বংস করেছে। দেখে মনে হচ্ছে এরা যেন জোসেফ গোয়েবেলস (নাৎসি প্রচারমন্ত্রী), যিনি পুরো বিশ্বের সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, সবাইকে চুপ করিয়ে রেখেছেন।
গত বছরের অক্টোবর থেকে পুনরায় শুরু হওয়া গাজা-ইসরাইল যুদ্ধে কমপক্ষে ৪১ হাজার ৪৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯৫ হাজার ৮১৮ জন আহত হয়েছে। হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরাইলে নিহতের সংখ্যা ছিল কমপক্ষে ১ হাজার ১৩৯ জন এবং ২০০ জনেরও বেশি ইসরাইলিকে বন্দি করা হয়েছিল।
জৈন্তা বার্তা / আরআর




